পর্দার থালাপতি বিজয় এখন বাস্তবের রাজনীতির ময়দান জয় করলেন। মাত্র দুই বছর আগে রাজনৈতিক দল গঠন করে তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছেন তিনি।
জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর ওরফে থালাপতি বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম’ (টিভিকে) ২৩৪ আসনের বিধানসভায় ১০৭টিতে জয় পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যদিও সরকার গঠনের জন্য ১১৮টি আসন প্রয়োজন, তবে অন্য দলগুলোর সমর্থনে তার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথ এখন অনেকটা প্রশস্ত।
যদি বিজয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন, তবে ১৯৭৭ সালে এম জি রামচন্দ্রনের (এমজিআর) পর তিনিই হবেন প্রথম চলচ্চিত্র তারকা, যিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসবেন।
এর আগে জয়ললিতার মতো বড় তারকা মুখ্যমন্ত্রী হলেও তিনি এমজিআরের গড়া দলের উত্তরাধিকারী হিসেবে ক্ষমতায় এসেছিলেন। বিজয় সেই প্রথা ভেঙে নতুন দল গড়ে এই সাফল্য অর্জন করলেন।
বিজয়ের এই রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালে তার ফ্যান ক্লাবগুলোকে ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম’ সংগঠনের আওতায় আনার মধ্য দিয়ে। সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনটি শক্তিশালী ভিত্তি পায়।
২০১১ সালে এআইএডিএমকে জোটকে সমর্থন দিয়ে তিনি নিজের রাজনৈতিক প্রভাবের পরীক্ষা দেন। ২০১৯ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) সমালোচনা করে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
২০২১ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিজয়ের সংগঠনের প্রার্থীরা অধিকাংশ আসনে জয়লাভ করলে তার ভোটের শক্তি প্রমাণিত হয়। এরপর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে টিভিকে গঠন করেন তিনি।
রাজনীতির প্রতি পূর্ণ একাগ্রতা দেখাতে তিনি তিন দশকের অভিনয় জীবনের অবসান ঘটিয়ে প্রায় ৭০টি সিনেমার ক্যারিয়ার ত্যাগ করার ঘোষণা দেন। বেকারত্ব, দুর্নীতি ও সুশাসনের মতো ইস্যুগুলো তরুণ ভোটারদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে দেয়।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় ২০২৫ সালে একটি জনসভায় পদদলিত হয়ে প্রাণহানির ঘটনা বিজয়ের নেতৃত্বের সামনে প্রথম বড় সংকট তৈরি করেছিল। তবে সেই পরিস্থিতির কার্যকর ও জবাবদিহিতামূলক মোকাবিলা জনগণের আস্থা অর্জনে সহায়ক হয়। টিভিকে গত দুই বছরে জেলা কমিটি ও ভোটকেন্দ্রভিত্তিক ইউনিট গঠন করে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক কাঠামো দাঁড় করিয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি


