দেশের কৃষি খাতে সেচব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে এবং শহর ও গ্রামের মধ্যকার বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
গ্রামের কৃষকরা যেন পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পায় এবং উৎপাদন ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
বৃহস্পতিবার বিকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে সরকারের বক্তব্যের প্রতি জনগণের আস্থা কমেছে, যা পুনরুদ্ধারে কিছুটা সময় লাগবে। তবে বর্তমান সরকার শপথের মর্যাদা ও সংসদের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বিদ্যুৎ সংকট কোনো সাময়িক ঘটনা নয় বরং এটি বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পুঞ্জীভূত অব্যবস্থাপনার ফলাফল। কাগজে-কলমে উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বেশি দেখানো হলেও বাস্তবের সঙ্গে তার বড় ধরনের গরমিল রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, বুধবার দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট, যার বিপরীতে উৎপাদন সম্ভব হয়েছে ১৪ হাজার ১২৬ দশমিক ৩৫ মেগাওয়াট। ফলে দেশজুড়ে ২ হাজার ৮৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে বাধ্য হয়েছে সরকার।
বর্তমানে ফসল কাটার মৌসুম চলায় কৃষকদের সেচ কাজের সুবিধার্থে প্রধানমন্ত্রী নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল ও বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং জুলাই অভ্যুত্থানের বৈষম্যহীন বাংলাদেশের চেতনা সমুন্নত রাখতে ঢাকাতে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গ্যাস সংকটের বিষয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, দেশে প্রতিদিন ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা যাচ্ছে মাত্র ২ হাজার ৬৩৬ মিলিয়ন ঘনফুট।
পর্যাপ্ত অর্থ থাকলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকায় দ্রুত গ্যাস আমদানি বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার তালিকায় এই অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ দৃশ্যমান হবে বলে তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, একটি আমদানিকৃত পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং একটি কয়লাভিত্তিক পাওয়ার প্ল্যান্ট রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।
আগামী সাত দিনের মধ্যে এগুলো পূর্ণ উৎপাদনে ফিরলে লোডশেডিং পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে। জনগণের এই সাময়িক কষ্টের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।


