কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীরদ্বীপ সংলগ্ন নাফ নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় আরও এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে গত ১২ দিনের ব্যবধানে টেকনাফের সেন্টমার্টিন, শাহপরীরদ্বীপ ও সদর উপকূলীয় এলাকা থেকে মোট পাঁচটি অজ্ঞাত নারী-পুরুষের মরদেহ ও কঙ্কাল উদ্ধার করা হলো।
রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শাহপরীরদ্বীপ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে বিজিবির সাউদার্ন পয়েন্ট সংলগ্ন নাফ নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে শাহপরীরদ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ি ও টেকনাফ নৌ-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি একজন পুরুষের। দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় মরদেহে পচন ধরেছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
শাহপরীরদ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক সনজীব কান্তি নাথ বলেন, ‘স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নাফ নদীতে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল নৌ-পুলিশের জলসীমায় হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বিষয়টি টেকনাফ নৌ-পুলিশ ফাঁড়িকে জানানো হয়। পরিচয় শনাক্ত ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, গত ৮ জুলাই থেকে টেকনাফের সেন্টমার্টিন, শাহপরীরদ্বীপ ও সদর উপকূলীয় এলাকায় মোট পাঁচটি অজ্ঞাত নারী-পুরুষের মরদেহ ও কঙ্কাল উদ্ধার হয়েছে। প্রতিটি ঘটনাই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্ত, মৃত্যুর কারণ নির্ণয় এবং এসব মৃতদেহগুলো কোথায় থেকে আসছে তার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য জানা যাবে।
স্থানীয়দের ধারণা, চলমান মিয়ানমার সংঘাতের কারণে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে কোনো মরদেহ নাফ নদীতে ভেসে আসতে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ কোনো জেলে কিংবা সম্প্রতি ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ রোহিঙ্গাদের কারও মরদেহও হতে পারে। তবে এসব বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নিশ্চিত করেনি পুলিশ।


