তীব্র কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে ঈদের দিনেও মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার অধিকাংশ এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে কোরবানির মাংস সংরক্ষণ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হওয়ায় অনেক পরিবার পশু কোরবানি করা স্থগিত রেখেছে। ফলে ঈদের আনন্দের বদলে স্থানীয়দের মাঝে দুর্ভোগ ও হতাশা নেমে এসেছে।
বুধবার সকাল ৮টার দিকে শিবচরে তীব্র কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রবৃষ্টি হয়। ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের মূল লাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে এবং বেশ কিছু স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে যায়। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
ঝড়ের প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পার হলেও এখনো উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হয়নি। পৌরসভা ও আশপাশের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ চালু করা গেলেও গ্রামীণ এলাকাগুলো এখনো অন্ধকারে রয়েছে।
বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন কোরবানিদাতারা। একদিকে পানির মোটর চালু করা যাচ্ছে না, অন্যদিকে ফ্রিজ বন্ধ থাকায় মাংস নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই অনিশ্চয়তার কারণে উপজেলার কয়েকটি এলাকার অনেক পরিবার পশু কোরবানি দেওয়া থেকে বিরত রয়েছে।
শিবচরের সাহেবেরহাট এলাকার বাসিন্দা রেজাউল হাওলাদার বলেন, ‘ঝড়ে আমার বাড়ির সামনের গাছ বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়ে। পল্লী বিদ্যুতের লোকজন এসে বলেন, ‘নিজ খরচে গাছ কেটে সরানোর পর তারা লাইন ঠিক করবেন। ঈদের দিন ভোরে আমি গাছ কেটে সরিয়েছি, কিন্তু এখনো লাইন ঠিক করতে কেউ আসেনি।’
মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শিবচর জোনাল অফিসের ডিজিএম অভিলাষ চন্দ্র পাল বলেন, ‘প্রচণ্ড ঝড়ে বৈদ্যুতিক লাইনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সব এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামত করে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করতে বেশ সময় প্রয়োজন হবে।’


