জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে ভিপি প্রার্থী অমর্ত্য রায়ের প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) ও নির্বাচন কমিশনারকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান ও নির্বাচন কমিশনারকে অবরুদ্ধ করা হয়।
অমর্ত্য ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ প্যানেল থেকে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন এবং প্রচারও চালাচ্ছিলেন।
মঙ্গলবার দুপুরে অমর্ত্য রায়ের প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেওয়ার আদেশ দেয় হাই কোর্ট, বিকালে তা স্থগিত করে দেয় আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এরপরই তার সমর্থকরা ভিসি ও নির্বাচন কমিশনারকে অবরুদ্ধ করে।
আগামী ১১ সেপ্টেম্বর জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের প্যানেল ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ থেকে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অমর্ত্য রায়। তবে গত ৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাকসুর গঠনতন্ত্রের ৪ ও ৮ ধারার শর্ত অনুযায়ী তিনি ভোটার ও প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য। তাই তার নাম ভোটার ও প্রার্থী তালিকা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী দাবি করেছেন, তাকে অন্যায়ভাবে প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও জাকসু নির্বাচনের প্রধান কমিশনারকে লিগ্যাল নোটিশও পাঠিয়েছিলেন। প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় সোমবার হাইকোর্টে রিট করেন অমর্ত্য রায়।
গত ২৯ আগস্ট ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ প্যানেল তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে। এতে সাধারণ সম্পাদক পদে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শরণ এহসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদে নৃবিজ্ঞান বিভাগের নুর এ তামীম স্রোত এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে ফারিয়া জামান নিকি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই প্যানেলে ছাত্র ইউনিয়নের একটি অংশ ছাড়াও জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অর্গানাইজেশন, ইন্ডিজেনাস স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, গণকৃষ্টি, চলচ্চিত্র আন্দোলন, জহির রায়হান চলচ্চিত্র সংসদ, জাহাঙ্গীরনগর ফটোগ্রাফি সোসাইটি, জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার অডিটোরিয়াম ও জলসিঁড়ি সংগঠন যুক্ত রয়েছে।


