জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী মো. জোবায়েদ হোসেন হত্যার ঘটনায় একদিন পরও মামলা হয়নি। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দাফন করতে নিয়ে গেছেন পরিবারের সদস্যরা।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে এরই মধ্যে দুজনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। তবে আরও একজনকে খোঁজা হচ্ছে। হেফাজতে থানা জোবায়েদের ছাত্রী বর্ষা ও মো. মাহির রহমান নামে দুজনের বিষয়ে মুখ খুলছেন না কোনো পুলিশ কর্মকর্তা।
তবে মাহিরের বন্ধু নাফিসকে খোঁজা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন পুলিশ সদস্য।
সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশের লালবাগ জোনের ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘মরদেহ দাফন করে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় ফিরে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার পরই ওই ছাত্রীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং বাড়ির অন্য সদস্যদেরও সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে।’
‘এছাড়া সিসিটিভির ফুটেজ দেখে দুইজনকে শনাক্ত করেছি। কতজনকে আটক করা হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।’
তবে বংশাল থানা পুলিশের এক সদস্য জানান, সোমবার ভোরে মাহিরের মা নিজেই ছেলেকে নিয়ে বংশাল থানায় হাজির হন এবং মাহিরকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
নিহত জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বলেন, ‘আমরা পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করতে চেয়েছি-শিক্ষার্থী বর্ষা, তার বাবা-মা, বর্ষার প্রেমিক মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু নাফিসকে। কিন্তু বংশাল থানার ওসি মামলা নিতে রাজি হননি।’
তবে বংশাল থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে মামলা রেকর্ড করা হবে। জড়িতদের চিহ্নিত করে আটকের চেষ্টা ও তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে রোববার বিকালে ঢাকার আরমানিটোলায় টিউশনিতে গিয়ে খুন হন পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী ও জবি ছাত্রদল আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জোবায়েদ হোসেন।
আরমানিটোলার পানির পাম্প গলির ‘রওশন ভিলা’ নামের বাড়ির সিঁড়ি থেকে রক্তমাখা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় সিসিটিভি ফুটেজে দুজন তরুণকে পালিয়ে যেতে দেখা যায়, তবে তাদের মুখ স্পষ্ট নয়।
গত এক বছর ধরে ওই বাড়িতেই বর্ষাকে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান পড়াতেন জোবায়েদ। ঘটনার পর বর্ষাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়। রোববার রাত ১১টার দিকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে বাসা থেকে থানায় নেওয়া হয়।
এই হত্যার প্রতিবাদে জবি শিক্ষার্থীরা বংশাল থানার সামনে অবস্থান নিয়ে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানায়। তারা তাঁতিবাজার মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করে এবং কিছু সময়ের জন্য আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদও জানায়।
নিহতের স্মরণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুই দিনের শোক ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে ২২ অক্টোবর নির্ধারিত বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের সব আয়োজন স্থগিত করা হয়েছে।


