ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভোট দেওয়া শেষে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ‘আচরণবিধি লঙ্ঘনের’ অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী সাদিক কায়েম।
তিনি বলেন, ‘আমরা আচরণবিধি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তারা বলেছে, ক্যাম্পাসে কোনোপ্রকার ডেস্ক বসানো যাবে না, আমরা সেটা করিনি; ১০০ মিটারের ভেতর(ভোটকেন্দ্রের) কোনো স্লিপ দেওয়া যাবে না। কিন্তু আমরা সকালে এসে দেখতে পেয়েছি একটি সংগঠন ডেস্ক বসিয়েছে এবং তারা ১০০ মিটারের মধ্যে ভোটারদের কাছে গিয়ে গিয়ে স্লিপ দিচ্ছে। আমরা ছাত্রদলের কয়েকজন প্রার্থীকে দেখতে পেয়েছি।’
তবে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ওই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে উদয়ন স্কুল এন্ড কলেজে ভোট দেন সাদিক। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে তিনি এই অভিযোগ করেন। এ সময় নির্বাচন কমিশনকেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করে, আমাদের নির্বাচন কমিশন যদি কাউকে বাড়তি সুবিধা দেয়, তখন শিক্ষার্থীরা তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিবে। আমরা চাই না শিক্ষার্থী বনাম ছাত্র এমন পরিস্থিতি তৈরি হোক।’
সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বৃহত্তর স্বার্থে দায়িত্বশীল আচরণের অনুরোধ জানিয়ে সাদিক বলেন, ‘এই নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই শহীদদের আকাঙ্ক্ষার আলোকে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে, এবং সারা দেশকে একটি মেসেজ দিতে। আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা আশা রাখছি আমরা যারা ছাত্রসংগঠনে আছি, নির্বাচন কমিশনসহ সবাই আরও দায়িত্বশীল আচরণ করবে।’
এ বিষয়ে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছাত্রদলের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমাদের বুথগুলো ভোটকেন্দ্রগুলোর প্রায় দেড়শ’ মিটার দূরে স্থাপন করা হয়েছে।’

দীর্ঘ সাড়ে ছয় বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের (ডাকসু) ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি কেন্দ্রের ৮১০টি বুথে চলছে এই ভোটগ্রহণ।
ডাকসু নির্বাচনে মোট ২৮টি পদের বিপরীতে লড়ছেন ৪৭১ জন প্রার্থী, এর মধ্যে নারী প্রার্থী ৬২ জন। শুধু সদস্যপদেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সর্বাধিক ২১৭ জন প্রার্থী।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলে ১৩টি পদে মোট এক হাজার ৩৫ প্রার্থী চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন। যাদের মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৮৭৩ এবং ছাত্রী ১৮ হাজার ৯০২ জন।
ভোটাররা ব্যাগ, মোবাইল ফোন, স্মার্ট ওয়াচ, যেকোনো ধরনের ইলেকট্রিক ডিভাইস, পানির বোতল বা তরল কোনো পদার্থ নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না।
এবারের ডাকসু নির্বাচনে উমামা ফাতেমার নেতৃত্বে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’, ছাত্রদল সমর্থিত ‘আবিদ-হামিম-মায়েদ পরিষদ’, ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ সমর্থিত ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’, বাম জোট সমর্থিত ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’সহ পূর্ণ ও আংশিক মিলিয়ে প্রায় ১০টি প্যানেল অংশ নিচ্ছে।


