ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ‘আচরণবিধি লঙ্ঘনের’ অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী আবিদুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে, নিয়ম ভেঙে শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে স্থাপিত ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করেছেন তিনি। তবে আবিদুল ইসলাম খান জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েই ভোটকেন্দ্রে গিয়েছিলেন তিনি।
অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রার্থীদের জন্য কোনো বিশেষ কার্ডের ব্যবস্থা করেনি। তাই মেয়েদের হলের ভোট কেন্দ্রে তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।’
এদিকে ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী মোস্তাক গাউসুল হক বলেন, ‘প্রার্থীদের ভোট কেন্দ্রে প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। আমি জহুরুল হকের কেন্দ্রে ছিলাম। বিষয়টি জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখছি।’
এরপর মোস্তাক গাউসুল হক জগন্নাথ হলের ভোট কেন্দ্রে গিয়ে জানান, তিনি সেখানে যাওয়ার পর আর কাউকে দেখেননি। আর কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের কাছে শামসুন নাহার হলের শিক্ষার্থীদের ভোটকেন্দ্রের বাইরে ঘোরাফেরা করে ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন আবিদুল ইসলাম খান।
তার সঙ্গে ছাত্রদল প্যানেলের লিফলেট বিলি করেন একাধিক কর্মী। কিসের লিফলেট জানতে চাইলে ওই কর্মীরা বলেন, ‘ভোটাররা যেন ব্যালট নম্বর মনে রাখতে পারেন, লিফলেটে সেটাই উল্লেখ করা।’
সকাল থেকে অনেক সংখ্যক শিক্ষার্থী ভোট কেন্দ্রে আসছেন। বিভিন্ন কেন্দ্রে দেখা গেছে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। অনেক শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে উদগ্রীব।
ঢাবির ভোট ঘিরে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মীরা প্রবেশমুখগুলোতে অবস্থান নিয়েছেন। শুধুমাত্র আইডি কার্ডধারী শিক্ষার্থী এবং অনুমোদিত ব্যক্তিদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি রয়েছে।
ডাকসু নির্বাচনে মোট ২৮টি পদের বিপরীতে লড়ছেন ৪৭১ জন প্রার্থী, এর মধ্যে নারী প্রার্থী ৬২ জন। শুধু সদস্যপদেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সর্বাধিক ২১৭ জন প্রার্থী।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলে ১৩টি পদে মোট এক হাজার ৩৫ প্রার্থী চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন। যাদের মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৮৭৩ এবং ছাত্রী ১৮ হাজার ৯০২ জন।
ভোটাররা ব্যাগ, মোবাইল ফোন, স্মার্ট ওয়াচ, যেকোনো ধরনের ইলেকট্রিক ডিভাইস, পানির বোতল বা তরল কোনো পদার্থ নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না।


