কক্সবাজারের চকরিয়ায় অসুস্থ একটি বন্য মা-হাতির মৃত্যু হয়েছে। কয়েকদিন ধরে রামুর ঈদগড়, চকরিয়ার খুটাখালী এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী এলাকার পাহাড়ে ঘুরে বেড়ানো হাতিটি শনিবার মধ্যরাতে মারা যায়।
বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের লম্বাখালী এলাকায় হাতিটির মৃত্যু হয়। মৃত হাতিটির বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছর।
ঘটনার পর একটি শাবক হাতিসহ আট থেকে ১০টি বন্য হাতির একটি দলকে মৃত হাতিটির চারপাশে অবস্থান করতে দেখা যায়।
বনবিভাগের ঈদগাঁও রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসাইন বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে ঈদগড়, খুটাখালী ও বাইশারীর পাহাড়ি এলাকায় অসুস্থ ও শারীরিকভাবে দুর্বল একটি বন্য হাতিকে লোকালয়ের আশপাশে বিচরণ করতে দেখে স্থানীয়রা বনবিভাগকে খবর দেয়। খবর পেয়ে বনবিভাগের একটি দল গত চারদিন ধরে বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় অনুসন্ধান চালালেও হাতিটির অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।’
খুটাখালী ইউনিয়নের লম্বাকাটা এলাকার স্থানীয় কৃষক নুর মোহাম্মদ জানান, গত দুই দিন ধরে হাতিটি দুর্বল ও অসুস্থ অবস্থায় লোকালয়ে অবস্থান করছিল। তার সঙ্গে একটি ছোট শাবকও ছিল।
তিনি বলেন, ‘শুক্রবার রাত থেকেই মা হাতি ও শাবকটি আমার বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করছিল। পরে বিষয়টি বনবিভাগকে জানাই। রোববার সকালে একই স্থানে মা হাতিটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই। শাবকটি মৃত মায়ের দেহের পাশেই অবস্থান করছিল। কোনোভাবেই সে মায়ের দেহ ছেড়ে যাচ্ছিল না। লোকজন কাছে গেলে আতঙ্কিত হয়ে করুণস্বরে ডাকছিল।’
তিনি আরও জানান, এ সময় পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে আরও আট থেকে ১০টি বন্য হাতিকে অবস্থান নিতে দেখা যায়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
রেঞ্জ কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসাইন জানান, ‘রোববার সকালে খবর পেয়ে বনবিভাগের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে ভেটেরিনারি সার্জনের সহায়তায় হাতিটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয় এবং ঘটনাস্থলেই মাটি চাপা দেওয়া হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর হাতিটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
এর আগে, গত ২৮ মার্চ চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের মুসলিমনগর এলাকায় একটি বন্য হাতিকে হত্যা করে মাটিচাপা দিয়ে রাখার চাঞ্চল্যকর ঘটনা উদঘাটন করেছিল বন বিভাগ।


