কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষের বাথরুম থেকে কুলসুমা আক্তার (২৬) নামে এক গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে তার সঙ্গে স্বামী পরিচয়ে হোটেলে ওঠা এক যুবক পলাতক রয়েছেন। পুলিশের ধারণা, ওই যুবক কুলসুমার পরকীয়া প্রেমিক হতে পারেন এবং তিনিই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন।
বুধবার রাত ৮টার দিকে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন স্ট্যান্ড পার্ক রিসোর্টের ৩০২ নম্বর কক্ষের বাথরুম থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত কুলসুমা আক্তার ঈদগাঁও উপজেলার চাঁন্দেরঘোনা এলাকার বাসিন্দা।
কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ স্ট্যান্ড পার্ক রিসোর্টের ৩০২ নম্বর কক্ষে যায়। পরে বাথরুম থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
পুলিশ জানায়, কুলসুমার সঙ্গে হোটেলে ওঠা যুবক কক্ষ বুকিংয়ের নথিতে ‘মোহাম্মদ আরফান’ নাম উল্লেখ করেন। তবে নিহতের বাবা-মা ও স্বজনরা এ নামে কাউকে চেনেন না বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। ঘটনার পর থেকে ওই যুবক পলাতক রয়েছেন।
ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে কুলসুমার স্বামী হারুনের বিরুদ্ধে করা একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। বুধবার ওই মামলার শুনানির দিন ছিল। সকালে তিন বছর বয়সী শিশুসন্তানকে নিয়ে কুলসুমা আদালতে হাজিরা দিতে এসেছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে ওই নারীর সঙ্গে হোটেলে ওঠা যুবক পলাতক রয়েছে। নিহতের বাবা-মাসহ স্বজনরা ওই যুবকের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, পলাতক যুবক কুলসুমার পরকীয়া প্রেমিক হতে পারেন।’
তবে আদালতে মামলার হাজিরা দিতে আসা কুলসুমা কখন এবং কীভাবে ওই হোটেলে উঠেছিলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারেনি পুলিশ।
ওসি বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য জানতে হোটেলটির দুই কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।


