এশিয়ান গেমসে বড় স্বপ্ন নিয়ে জাপানের পথে বাংলাদেশ। ফাইনালে ওঠার পাশাপাশি সোনার পদক জিততে চান টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস।
বুধবার মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ও শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন লিটন। নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১০ মিনিট পর সংবাদ সম্মেলনে আসেন তিনি।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পুরুষ দলের ওপর প্রত্যাশা রয়েছে। নারী দল পদক জিততে না পারায় পুরুষ দলের দিকে আরও বেশি নজর সবার। তবে লিটন মনে করেন, এই প্রত্যাশাকে চাপ হিসেবে নেওয়ার কারণ নেই।
লিটন বলেন, ‘অবশ্যই সবার প্রত্যাশা থাকবে। একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমিও ভালো কিছু করার প্রত্যাশা নিয়ে সেখানে যাব।’
এশিয়ান গেমস নিয়মিত হয় না বলে এই সুযোগকে বিশেষ মনে করছেন লিটন। দলের কয়েকজনের জন্য এটি হবে এশিয়ান গেমসে প্রথম অংশগ্রহণ।
তিনি বলেন, ‘আমাদের খেলোয়াড়েরা এই টুর্নামেন্টে খেলতে খুবই আগ্রহী। কারণ এটি প্রতি বছর হয় না। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ বা জাতীয় দলের খেলা নিয়মিত থাকে। কিন্তু এই টুর্নামেন্ট খুবই বিরল। প্রতিটি খেলোয়াড়ই উচ্ছ্বসিত। আমরা সবাই বড় স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করব।’
২০১০ সালের গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটে সোনা জিতেছিল বাংলাদেশ। এই ইভেন্টে সেটিই বাংলাদেশের একমাত্র সোনার পদক। এবার লিটনের লক্ষ্য ফাইনালে ওঠা, সঙ্গে সোনার পদকের স্বপ্নও দেখছেন তিনি।
এশিয়ান গেমসের আগে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে খেলোয়াড়েরা খুব একটা ছন্দে ছিলেন না। দ্বিতীয় ম্যাচে অবশ্য কয়েকজন ব্যাটার-বোলার নিজেদের সামর্থ্য দেখিয়েছেন।
সাইফ হাসান ৫২ বলে ৭৭ রান করে সর্বোচ্চ রান করেন। তানজিদ হাসান করেন ১৪ বলে ২৪ রান। মোসাদ্দেক হোসেন ২২ বলে করেন ৪৬ রান। বোলিংয়ে মোস্তাফিজুর রহমান তিন ওভারে ১৫ রান দিয়ে নেন তিন উইকেট। হাসান মাহমুদ তিন ওভারে ১৭ রান দিয়ে এক উইকেট নেন। রিশাদ হোসেন চার ওভারে ২৫ রান দিয়ে পান এক উইকেট।
লিটন বলেন, ‘আমরা খুব ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি। লক্ষ্য পরিষ্কার। আমরা ফাইনালে উঠতে চাই। আশা করি, সেখানে ভালো কিছু করতে পারব।’
আজ দুই দলে ভাগ হয়ে জাপানের উদ্দেশে রওনা হবে বাংলাদেশ। ২৯ সেপ্টেম্বর কোয়ার্টার ফাইনাল দিয়ে সরাসরি আসর শুরু করবে দলটি। গ্রুপ পর্বের ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হবে।
দীর্ঘ বিরতির পর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ফিরেছে বাংলাদেশ। এশিয়ান গেমসের আগে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলায় দলের ছন্দ ফেরাতে সহায়তা হয়েছে বলে মনে করেন লিটন। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলেছিল বাংলাদেশ।
লিটন বলেন, ‘প্রস্তুতি খুব ভালো হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছি। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজ ছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এই ম্যাচগুলো দল হিসেবে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে। প্রস্তুতির দিক থেকে আমরা ভালো করেছি।’
চোটের কারণে এশিয়ান গেমসের দলে নেই মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ডান হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে ছিটকে গেছেন তিনি। তার বদলে দলে নেওয়া হয়েছে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা অফস্পিনার আলিস আল ইসলামকে।
তানজিম হাসান সাকিব ও আবদুল গাফফার সাকলাইনকেও এই ভূমিকার জন্য বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে দুজনই চোটে আছেন। তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়ে কোচিং স্টাফরা কাজ করছেন বলে জানান লিটন। তাদের তৈরি হতে সময় লাগবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
‘হ্যাঁ, কিছু তরুণ খেলোয়াড় আছে। কোচরা তাদের নিয়ে কাজ করছেন। অবশ্যই তাদের কিছুটা সময় লাগবে। আশা করি, এক বছর বা দেড় বছরের মধ্যে তাদের কাছ থেকে ভালো কিছু পাওয়া যাবে,’ বলেন লিটন।
বড় স্বপ্ন সামনে থাকলেও আপাতত ম্যাচ ধরে এগোতে চান বাংলাদেশ অধিনায়ক।
লিটন বলেন, ‘ক্রিকেটে আমরা সব সময় ম্যাচ ধরে এগোনোর কথা বলি। এবারও সেভাবেই এগোব।’


