বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে থেমে থাকতে চান না স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। নতুন মৌসুমে মাঠে ফেরার আগে দলকে আরও উন্নতির তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
২০২৪ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এ বছর বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন। তবে শনিবার নেশন্স লিগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই নতুন চ্যালেঞ্জ শুরু করতে চায় লা রোহা।
জুলাইয়ে নিউ জার্সিতে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের পরই পরবর্তী লক্ষ্য ঠিক করেছিলেন দে লা ফুয়েন্তে। ৬৫ বছর বয়সী এই কোচ সম্প্রতি চুক্তিও নবায়ন করেছেন। নতুন চুক্তি অনুযায়ী ২০৩২ সাল পর্যন্ত স্পেনের দায়িত্বে থাকবেন তিনি।
দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘বিশ্বকাপ ফাইনালের দুই-তিন মিনিট পর একজন খেলোয়াড় আমাকে এসে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘আমাদের আর কী জিততে হবে?’ আমি বলেছিলাম, ২৬ সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ।’
স্পেন কোচের ভাষায়, ‘এই দল কখনো থামে না। বিশ্বকাপ জয় যথেষ্ট নয়। আমাদের আরও ভালো হতে হবে। আগের অর্জন পরের ম্যাচ জেতার নিশ্চয়তা দেয় না।’
স্পেনের পরবর্তী বড় লক্ষ্য ২০২৮ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ। ২০০৮ সালের ইউরো, ২০১০ সালের বিশ্বকাপ ও ২০১২ সালের ইউরো জয়ের কৃতিত্ব পুনরায় অর্জনের লক্ষ্যও থাকবে তাদের।
তবে দে লা ফুয়েন্তে মনে করেন, সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি কঠিন। তিনি বলেন, ‘জীবনে জেতা কঠিন। জয়ের চেয়ে হারের সংখ্যাই বেশি।’
‘আমরা আগের শিরোপাগুলোর সাফল্য ধরে রাখার চেষ্টা করব। জয়ের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো অবস্থানে থাকতে চাই।’
‘এখন আমরা প্রতিপক্ষের হারানোর দল। এটিই আমাদের বাড়তি অনুপ্রেরণা।’
২০২৪ সালের ইউরো ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরেছিল টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড।
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর প্রথম ম্যাচেই সেই ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন।
নেশন্স লিগের ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দুটি ম্যাচ ও চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য বিশ্বকাপ দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড়কেই রেখেছেন দে লা ফুয়েন্তে।
বার্সেলোনার কিশোর তারকা লামিনে ইয়ামাল ও অধিনায়ক রদ্রি দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। দুজনই ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে আছেন।
বিশ্বকাপে পায়ের চোটের কারণে খেলতে না পারা বার্সেলোনার মিডফিল্ডার ফার্মিন লোপেস দলে ফিরেছেন। রিয়াল মাদ্রিদের ডিফেন্ডার ডিন হুইসেনও ফিরেছেন জাতীয় দলে।
গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়া চোট পাওয়ায় ইন্টার মিলানের গোলরক্ষক হোসেপ মার্তিনেসকে দলে নেওয়া হয়েছে। এস্পানিওলের ফর্মে থাকা স্ট্রাইকার রবার্তো ফের্নান্দেস প্রথমবার স্পেনের হয়ে খেলার সুযোগ পেতে পারেন।
চোট পাওয়া টটেনহ্যামের ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরোর বদলে শেষ মুহূর্তে দলে ডাক পেয়েছেন ইভান ফ্রেসনেদা।
দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘যারা সবকিছু জিতেছে, তাদের দলে ধারাবাহিকতা থাকবে না, তা কি হয়? তবে যারা জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে, তাদেরও সুযোগ দেওয়া হবে।’
বিশ্বকাপের বেশির ভাগ ম্যাচে স্পেনের আক্রমণভাগে ছিলেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। ফাইনালে জয়সূচক গোল করেন ফের্নান তোরেস। তবে রিয়াল মাদ্রিদের কার্লোস এসপির পরিবর্তে দলে সুযোগ পাওয়া রবার্তো ফের্নান্দেসও নিজের জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
নেশন্স লিগ থেকে ২০২৮ সালের ইউরোর প্রস্তুতি পর্যন্ত স্পেনের দলে কয়েকটি পজিশনে জায়গা নিয়ে লড়াই চলবে। দে লা ফুয়েন্তে চান, এই প্রতিযোগিতাই দলকে আরও উন্নত করুক।
বিশ্বকাপ, ইউরোসহ একাধিক শিরোপা জয়ের পরও স্পেনের লক্ষ্য এখন সামনে এগিয়ে যাওয়া। দে লা ফুয়েন্তের বার্তা, সাফল্যের পরও উন্নতির পথ বন্ধ হয়নি।


