রামিসা হত্যা: ‘আমিও দোষ করেছি, ডলারকেও ধরেন’, অভিযুক্ত সোহেল

রামিসা হত্যা: ‘আমিও দোষ করেছি, ডলারকেও ধরেন’, অভিযুক্ত সোহেল
আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার।
Advertisement
Advertisement

রামিসা হত্যা মামলায় আত্মপক্ষ শুনানিতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেও বক্তব্যে দায় স্বীকার করেছেন অন্যতম আসামি সোহেল রানা।

বুধবার সকালে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে তিনি বলেন, ‘আমি নির্দোষ স্যার। আমার সাথে যে ছিল ডলার, তাকে আপনারা ধরেন। আমি দোষ করি নাই তা-না, আমিও দোষ করেছি।’

এই এক বাক্যেই তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেও হত্যায় সম্পৃক্ততার দায় স্বীকার করেন।

‘আমি খালাস চাই। আমাকে মাফ করে দেন। আমার সাথে ডলার ছিল। সেটা কেউ দেখে নাই। তাকে ধরেন, স্যার’, যোগ করেন সোহেল।

মামলার অপর আসামি ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকেও নির্দোষ বলে দাবি করেন সোহেল। বলেন, ‘আমারে মাফ করে দিয়েন, আমার একটা ছোটো ছাওয়াল (বাচ্চা) আছে, আমার বউটা একদম নির্দোষ।’

এ সময় স্বপ্না আক্তারের কাছে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কিছু করি নাই, আমি নির্দোষ’।

আরও পড়ুন

রাজধানী ঢাকার পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় করা মামলায় দুই আসামির আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য করে আদালত।

মামলার নথি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শিশু রামিসা আক্তার পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে তার ফ্ল্যাটের রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকলে একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে তার জুতা দেখা যায়।

ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও অন্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসা আক্তারের মস্তকবিহীন মরদেহ এবং রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পান।

আসামি স্বপ্না আক্তারকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, তার স্বামী  সোহেল রানা (৩০) রামিসাকে বাথরুমের ভেতরে আটকে রেখে ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যা করেছেন। জানালার গ্রিল কেটে আসামি সোহেল রানা পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় ১৯ মে শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুইজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পল্লবী থানা পুলিশ জানায়, প্রথমে হত্যাকাণ্ডে সহায়তাকারী স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার আসামিরা আদালতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad