রাজধানী ঢাকার পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষ হয়েছে। শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য করেছে আদালত।
বুধবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি হয়।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
এদিন সকালে সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়। তাদের মহানগর হাজতখানায় রাখা হয়।
সকাল ১০ টা ৪৭ মিনিটে সোহেল রানাকে ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ১০ টা ৫৭ মিনিটে হাজতখানা থেকে আদালতে তোলা হয়। সকাল ১১ টা ১০ মিনিটে তারা কাঠগড়ায় ওঠেন।
পরে আদালতের বিচারক প্রধান আসামি সোহেল রানাকে এ মামলার সব সাক্ষীদের জবানবন্দি পড়ে শোনান। আদালত সোহেল রানার কাছে জানতে চায়, তার কিছু বলার আছে কি না।
জবাবে সোহেল রানা বলেন, ‘আমি নির্দোষ স্যার। আমার সাথে যে ছিল ডলার, তাকে আপনারা ধরেন। আমি দোষ করি নাই তা-না, আমিও দোষ করেছি।’
‘আমারে মাফ করে দিয়েন, আমার একটা ছোটো ছাওয়াল আছে, আমার বউটা একদম নির্দোষ।’
এ সময় স্বপ্না আক্তারকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হলে তিনি বলেন, ‘আমি কিছু করি নাই, আমি নির্দোষ’।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্কের জন্য নির্ধারণ করার আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে।
এরপর ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শেষে আদালত থেকে যুক্তিতর্কের দিন ধার্যের এ আদেশ আসে।
গত সোমবার রামিসা হত্যা মামলায় বাদী আবদুল হান্নান মোল্লাসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করে ট্রাইব্যুনাল। পরদিন মঙ্গলবার ১৬ জনের সাক্ষ্য নেওয়া শেষে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব সমাপ্ত ঘোষণা করে আদালত।
এর আগে, গত ২৪ মে আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান। এরপর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে অভিযোগপত্রটি উপস্থাপন করা হয়।
চার্জশিটটি আমলে নিয়ে বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট।
একইদিন ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগ পত্র আমলে নিয়ে নিয়ে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১ জুন দিন ধার্য করেন। এ ছাড়া আসামিপক্ষে পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য মুসা কালিমূল্যাহকে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ করে আইন মন্ত্রণালয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শিশু রামিসা আক্তার পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে তার ফ্ল্যাটের রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকলে একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে তার জুতা দেখা যায়।
ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও অন্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসা আক্তারের মস্তকবিহীন মরদেহ এবং রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পান।
আসামি স্বপ্না আক্তারকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, তার স্বামী সোহেল রানা (৩০) রামিসাকে বাথরুমের ভেতরে আটকে রেখে ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যা করেছেন। জানালার গ্রিল কেটে আসামি সোহেল রানা পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় ১৯ মে শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুইজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা করেন।
পল্লবী থানা পুলিশ জানায়, প্রথমে হত্যাকাণ্ডে সহায়তাকারী স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার আসামিরা আদালতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।


