রাজধানীর আদাবর থানাধীন নবোদয় বাজার এলাকায় ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা পরবর্তী এক সালিস বৈঠক চলাকালে নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নেতার নাম আবুল বাসার বাদশা (৩০)। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ইউনিট বিএনপি সভাপতি মো. সাদ্দাম (৩৫)।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, ফিফা বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ফুটবল ম্যাচ দেখার পর নবোদয় হাউজিং এলাকায় কয়েকজন যুবক ঢোল বাজিয়ে উল্লাস করছিল। এ সময় আদাবর থানা বিএনপির সদস্য হাবিবুর রহমানের সঙ্গে নবোদয় বাজারের ব্যবসায়ী মজনুর ছেলে রিপনের বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে রিপনকে চড়-থাপ্পড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
এরই জেরে বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিরোধ মীমাংসার জন্য নবোদয় বাজারে রঞ্জুর দোকানে এক সালিস বৈঠক বসে। বৈঠক চলাকালে রিপন, নীরব, পারভেজ ও মাসুমসহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।
এ সময় তারা নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম ও সাধারণ সম্পাদক বাদশার হাত, পা ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে।
স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক বাদশাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আবুল বাসার বাদশার বাবার নাম আব্দুল গফুর। তার বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার পূর্ব দলিলাহ গ্রামে। বর্তমানে তিনি নবোদয় হাউজিং বি-ব্লক ১ নম্বর রোডের বাসায় থাকতেন।
আহত ইউনিট সভাপতি সাদ্দামের বাবার নাম আব্দুল মালেক। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থানায়। বর্তমানে তিনি নবোদয় হাউজিং ২ নম্বর রোডের আনসার গলিতে থাকেন।
আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, ব্রাজিলের খেলার দিন দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার মীমাংসার জন্য বুধবার রাতে সালিস বৈঠক বসে। বৈঠক চলাকালে দুজন বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে আহত করা হয়, যার মধ্যে পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেলে বাদশা মারা যান। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


