মেহেরপুরে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের দায়ে শাকিল হোসেন নামের এক ব্যক্তির ফাঁসির আদেশ দিয়েছে মেহেরপুর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল।
রোববার দুপুরে মেহেরপুর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন মামলার একমাত্র আসামী শাকিল।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাকিল হোসেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের আব্দাল হাসানের পুত্র।
মেহেরপুর নারী ও শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিটর মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন জানান, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ২৯ কার্যদিবসের মধ্য সশরীরে ও ভিডিও কলে স্বাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা গ্রহণ করে আদালত।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ জুন গাংনী উপজেলা চাঁদপুর গ্রামের পঞ্চম শ্রেণীর পড়ুয়া মেয়ে তার পিতাকে বাড়ির পাশের ফসলের মাঠে খাবার দিতে যাওয়ার সময় শাকিল হোসেন শিশুটিকে ধারালো হাসুয়া দিয়ে হত্যার ভয় দেখিয়ে পাট ক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে।
এক পর্যায়ে শিশুর চিৎকারে পালিয়ে যায় শাকিল। পরে মেয়েটির বাড়ি ফিরে তার পরিবারকে ধর্ষণের কথা জানালে গ্রামবাসী শাকিলকে আটক করে গণপিটুনি দেয়।
পরে পুলিশ গিয়ে শাকিলকে উত্তেজিত মানুষের কাছ থেকে উদ্ধার ও গ্রেপ্তার করে। এঘটনায় শিমুটির বাবা গাংনী থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত রিপোর্ট পুলিশ দাখিলের পর এ মামলায় আদালত ভিডিও কল ও সশরীরে ১২ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা গ্রহণ করে। মোট ২৯ কার্যদিবসে বিচারকাজ শেষে রোববার রায় ঘোষণা করা হয়।
রায়ে শাকিল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা ধর্ষক শাকিলের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে বিক্রয়লদ্ধ অর্থ আদালতের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর পরিবারকে পরিশোধের আদেশ দেয় আদালত।


