গাজীপুরের একটি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হোসেন আল-আমিনকে অপহরণ, নির্যাতন, হত্যা ও মরদেহ গুমের অভিযোগে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) সাবেক প্রধান মো. আসাদুজ্জামানসহ চার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ আমলে নিয়ে রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেয়। গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত অন্যরা হলেন পুলিশ পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান মিয়া, পুলিশ পরিদর্শক মো. মেজবাহ উদ্দিন আহাম্মেদ এবং এসআই তৌহিদুল ইসলাম সুমন।
এ মামলার আসামিদের মধ্যে তৎকালীন এডিসি ইশতিয়াক আহমেদ গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আটক রয়েছেন। আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর তারেক আবদুল্লাহ।
এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বর, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয় বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
১৮ দিন আটকে রাখার অভিযোগ
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের সমালোচনা করার অভিযোগে ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি গাজীপুরের ইবনে মাসউদ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হোসেন আল-আমিনকে সিটিটিসির সদস্যরা তুলে নিয়ে যায়।
এরপর তাকে ঢাকার মিন্টো রোডে অবস্থিত সিটিটিসির কার্যালয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অবৈধভাবে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের আরও অভিযোগ, টানা ১৮ দিন আটকে রেখে এডিসি ইশতিয়াক আহমেদের নেতৃত্বে আল-আমিনকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এতে তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, ১৮ ফেব্রুয়ারি আল-আমিনকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, হত্যার দায় এড়াতে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা তার মরদেহ গুম করেন। এ জন্য ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জের লাকিরচর এলাকায় ধলেশ্বরী নদীর ওপর তুলসীখালী ব্রিজ থেকে লাশ পানিতে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


