ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ডের বাজেট বরাদ্দ সমন্বয় করতে গিয়ে মূল্যস্ফীতি হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা তো টাকা ছাপিয়ে দিচ্ছি না, আমরা যেহেতু টাকা ছাপিয়ে দিচ্ছি না, কাজেই মূল্যস্ফীতি হবে না।’ বুধবার বিকালে সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা কৃষক কার্ড আগামী ১৪ তারিখে পয়লা বৈশাখের দিন চালু করতে যাচ্ছি। এই পাইলট কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে প্রায় ২২ হাজার বিভিন্ন ধরনের কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশের ১০টি জেলায় এই কর্মসূচি শুরু করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনি যদি জানতে চান, কবে নাগাদ সমগ্র বাংলাদেশের সব কৃষকের কাছে এটি পৌঁছানো যাবে–সরকারের হিসাবে দেশে প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষক রয়েছে। পর্যায়ক্রমে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আমরা সকল কৃষকের কাছে এটি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব।’
কতজন মানুষের কাছে এই সুবিধা পৌঁছাবে, মূল্যস্ফীতি হবে কি না এবং বাজেট কত—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে বাজেটের পরিমাণ এখনই জানানো হচ্ছে না। আমরা ধাপে ধাপে বিষয়গুলো এগিয়ে নেব।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি কৃষক কার্ডে কৃষকরা বছরে আড়াই হাজার টাকা পাবেন এবং ফ্যামিলি কার্ডে অন্তর্ভুক্ত নারীরা প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা পাবেন। আমরা এটি ধীরে ধীরে সম্প্রসারণ করব, যাতে অধিক সংখ্যক নারী ও কৃষক এই সুবিধার আওতায় আসেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘একসঙ্গে সবাইকে এই সুবিধা দেওয়া সম্ভব নয়। বিশ্বের কোনো দেশের পক্ষেই তা একবারে করা সম্ভব না। তাই প্রতি বছর বাজেট বাড়িয়ে আমরা ধাপে ধাপে এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ করব।’
তিনি বলেন, ‘আমরা তো টাকা ছাপিয়ে দিচ্ছি না, তাই মূল্যস্ফীতি হবে না। বরং এই অর্থ যখন বাজারে যাবে, তখন যারা এই সহায়তা পাচ্ছেন–প্রান্তিক কৃষক ও নারীরা–তারা এই টাকা দেশের ভেতরেই ব্যয় করবেন।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘একজন নারী এই অর্থ দিয়ে সন্তানের লেখাপড়ায় ব্যয় করবেন, পরিবারের জন্য ভালো খাবারের ব্যবস্থা করবেন অথবা ছোট কোনো স্থানীয় ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। ফলে সরকারের দেওয়া এই অর্থ স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে এবং অর্থনীতির চাকা ঘুরতে সুযোগ সৃষ্টি করবে।’


