বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) চুক্তিতে বিদ্যমান কাঠামোগত বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্যে ন্যায্যতা নিশ্চিত করা জরুরি এবং সদস্যদেশগুলোর সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করে সংস্থার কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার তিনি বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার সংস্কার বিষয়ক বিভিন্ন আলোচনায় অংশ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উন্নয়ন এবং সমতাভিত্তিক বাণিজ্য ব্যবস্থা নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার সংস্কার প্রক্রিয়া অবশ্যই সংস্থার মৌলিক নীতিমালার-স্বচ্ছতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায্যতা-ওপর ভিত্তি করে হতে হবে।
তিনি বলেন, এই নীতিগুলোর প্রতি প্রতিশ্রুতি বজায় রাখাই বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখার মূল চাবিকাঠি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে বাণিজ্য বিভাজন, একতরফা পদক্ষেপ এবং অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ প্রেক্ষাপটে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা একটি নিয়মভিত্তিক বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্য এখনো প্রাসঙ্গিক, গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরিহার্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিষয়ক আলোচনায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ঐকমত্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ পদ্ধতি স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এই নীতির কোনো ধরনের অবক্ষয় বিদ্যমান বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
উন্নয়ন বিষয়ক আলোচনায় তিনি বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কার থেকে অবশ্যই বাস্তব ও দৃশ্যমান ফলাফল আসতে হবে।
তিনি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত প্রতিশ্রুতি, বিশেষ করে বিশেষ ও পৃথক সুবিধা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই সুবিধা চুক্তিভিত্তিক অধিকার এবং উন্নয়ন বৈষম্য কমাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান বিধানসমূহ অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে এবং সেগুলো দুর্বল করা হলে উন্নয়নশীল দেশ, বিশেষত স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি হতে পারে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন মন্ত্রীপর্যায়ের সম্মেলনের ফলাফল ভবিষ্যৎ সংস্কার প্রক্রিয়ায় ভারসাম্যপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নয়নমুখী দিকনির্দেশনা দেবে।
বাংলাদেশ আগামী দিনগুলোতেও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


