রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিনের অপসারণ এবং ‘গণহত্যার সহযোগী’ হিসেবে তার বিচারের দাবি জানিয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সংগঠনের মোর্চা ‘জুলাই ঐক্য’।
শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় সংগঠনটি। এতে জুলাই ঐক্যের সংগঠক ফাহিম ফারুকি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিয়োগ দেওয়া রাষ্ট্রপতি চুপ্পুকে বাংলাদেশের সংবিধানের ৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘গুরুতর অসদাচরণ’ বা ‘সংবিধান লঙ্ঘনের’ দায়ে সংসদের মাধ্যমে ‘অভিশংসন’ (ইমপিচমেন্ট) করে পদ থেকে অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে ‘গণহত্যার সহযোগী’ হিসেবে তার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
ফাহিম ফারুকি বলেন, দেশে নির্বাচিত সরকার না থাকায় তারা এত দিন অপেক্ষা করেছেন। এখন তারা চান, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করা হোক।
গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করা মোর্চা জুলাই ঐক্য মনে করে, রাষ্ট্রপতি চুপ্পুকে সংসদে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে সরকারি দল বিএনপি প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ এবং শহীদদের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি জানায়, যারা এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি, তাদের দ্রুত শপথ নেওয়া উচিত।
ফারুকি বলেন, ‘এখনো যারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি, তারা যেন চলতি অধিবেশনে দ্রুত শপথ গ্রহণের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে ফ্যাসিবাদী কাঠামোর বিলুপ্তি ঘটান। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে।’
এ সময় সংগঠনটি ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান বিন হাদী হত্যার দ্রুত বিচারের দাবিও জানায়।
এ ছাড়া জুলাই ঐক্যের প্রধান সংগঠক মুন্সী বোরহান মাহমুদ জুলাই-সংশ্লিষ্ট সব সংগঠনকে সক্রিয় ও একীভূত করার লক্ষ্যে আগামী ২৫ মার্চ পর্যন্ত সংগঠন সংগ্রহের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জুলাই ঐক্যের সংগঠক আসমাউল হুসনা, মারুফ সরকার ও ফাহিম মুসা।


