ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ আরও অনেকে। রোববার দুপুর ১২টায় প্রশাসন ভবনের সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাশাপাশি জিয়া পরিষদ, ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) ও গ্রীণ ফোরামের নেতারা অংশ নেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচিতে সংহতি জানান উপাচার্য অধ্যাপক নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, উপউপাচার্য অধ্যাপক এম এয়াকুব আলী ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম। সেখানে নিহত শিক্ষিকার স্বামী, চার সন্তান ও স্বজনরাও উপস্থিত ছিলেন।
ইউট্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক গফুর গাজী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে রক্তের দাগ মুছতে না মুছতেই আবারও এমন ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকারীদের এমন শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে আর কোনো হত্যাকাণ্ড না ঘটে।’
গ্রীণ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘রুনা অত্যন্ত বিনয়ী, সজ্জন ও মেধাবী শিক্ষক ছিলেন। এই হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।’ পাশাপাশি অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মরতদের আইডি কার্ড দেওয়া এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ভবন ও বিভাগে প্রয়োজনীয় আনসার মোতায়েনের মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানান।
‘অপরাধীরা যখন বুঝতে পারে কোনো শাস্তি হবে না, তখন তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।’
জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ফারুকুজ্জামান খান বলেন, ‘১৯৯৫ সালে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে শিক্ষকদের ওপর নানা হামলা দেখেছেন। এসব ঘটনার প্রতিবাদ হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিচার হয়নি।’ বিচারহীনতার কারণেই এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ফারুকুজ্জামান আরও বলেন, ‘অপরাধীরা যখন বুঝতে পারে কোনো শাস্তি হবে না, তখন তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।’ সম্প্রতি ক্যাম্পাসে একজন শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনাতেও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। প্রয়োজন হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে আন্দোলনে নামবেন বলেও জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এটি নজিরবিহীন ঘটনা মন্তব্য করে উপাচার্য বলেন, ‘বিচারের জন্য প্রশাসন প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে। ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে এবং তদন্তে সহায়তার জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে।’
উপাচার্য জানান, বিভাগে শিক্ষাকার্যক্রম চালু রাখতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও তদন্তের ক্ষেত্রে প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হবে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।


