চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ ইমাম মুফতী মো. শামছুদ্দিনের (৩৪) মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। রোববার দুপুরে নদীর পূর্বদিকে ওই ইমামের মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। মৃত শামছুদ্দিন চাঁদপুর শহরের উত্তর গুনরাজদি আল আমিন এতিমখানার তত্ত্বাবধায়ক ও মসজিদের ইমাম ছিলেন।
নৌ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট নদীতে মরদেহ ভাসার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে শামছুদ্দিনের মরদহ উদ্ধার করে।
আল-আমিন এতিমখানা কমপ্লেক্সের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মাওলানা আব্দুর রহমান গাজী জানান, শামছুদ্দিন চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার ওয়ারুক আলীপুর গ্রামের বাসিন্দা।
এর আগে শনিবার ইমাম শামছুদ্দিন জোহরের নামাজের পরে এতিমখানা সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীতে গোসল করতে যান। আছরের সময় হয়ে এলেও তিনি ফিরে না আসায় নদীর পাড়ে গিয়ে ইমামের খোঁজ করেন এতিমখানার বাবুর্চি ইলিয়াছ।
সেখানে গিয়ে দেখেন নদীর পাড়ে উনার জুতা, সাবান, লুঙ্গী, গামছা ও গেঞ্জি পড়ে আছে। পরে এতিমখানার ছাত্রদের সঙ্গে নিয়ে আশেপাশের এলাকা ও নদীতে ওনাকে খোঁজা হলেও ব্যর্থ হয়ে বিষয়টি সভাপতি আব্দুর রহমানকে জানান বাবুর্চি।
চাঁদপুর নৌ ফায়ার স্টেশন অফিসার মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘ইমাম নিখোঁজের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে প্রায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত আমাদের ডুবুরি টিম নিখোঁজ ব্যাক্তিকে উদ্ধারে কার্যক্রম পরিচালনা করে। আজ দুপুরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থল এলাকার একটু পূর্বদিকে ইমামের মরদেহ নদীতে ভাসতে দেখে। পরে ওই স্থান থেকে মরদহ উদ্ধার করে এতিমখানা নিয়ে যাওয়া হয়।’
এতিমখানা কমপ্লেক্সের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মাওলানা আব্দুর রহমান গাজী বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়া শেষে ইমামের নামাজে জানাজা এতিমখানার সামনে অনুষ্ঠিত হয় এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। এই ঘটনায় ইমাম পরিবারের কেউ কোনো অভিযোগ করেননি।’


