চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করতে এসে মোটরসাইকেল চালকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। সোমবার সকাল থেকেই জেলার চার উপজেলার শত শত চালক প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ফটোকপি জমা দিতে এসে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
আবেদনকারীরা জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদন জমা দিলেও কখন কার্ড হাতে পাবেন, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি এদিনই কার্ড পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। চালকদের দাবি, নিজ নিজ উপজেলায় আবেদন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলে এ দুর্ভোগ অনেকটাই কমানো যেত।
ফুয়েল কার্ড মূলত একটি বিশেষ পেমেন্ট কার্ড, যার মাধ্যমে পেট্রল, ডিজেলসহ বিভিন্ন জ্বালানি কেনা যায়। এটি ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মতো কাজ করলেও এর মাধ্যমে জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ নির্ধারণ, খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণের সুবিধা পাওয়া যায়।
এর আগে রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জ্বালানি তেলের মজুদ, পরিবহন, বিপণন ও ব্যবহারসংক্রান্ত এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয়, দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে চলমান অস্থিরতা ও কারসাজি মোকাবিলায় সব ধরনের যানবাহনের জন্য ‘ফুয়েল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে এরইমধ্যে জ্বালানি বিভাগ প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করেছে বলেও জানানো হয় ।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, আগামী ১ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কাউকে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে না। সে অনুযায়ী সোমবার ও মঙ্গলবার- এই দুই দিন কার্ড বিতরণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। কার্ড সংগ্রহের জন্য আবেদনকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বরের কপি, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং এক কপি ছবি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। কার্ডটি বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ না করলে পরবর্তীতে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গায় মোট ২২টি তেল পাম্প রয়েছে। সোমবার থেকে প্রতিটি পাম্পে একসঙ্গে সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জ্বালানি তেল বিতরণ কার্যক্রম চালু থাকবে। তবে কৃষকদের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। তারা ২৪ ঘণ্টা যেকোনো সময় পাম্প থেকে ডিজেল সংগ্রহ করতে পারবেন।
এদিকে জরুরি সেবায় নিয়োজিত পুলিশ ও সাংবাদিকদের জন্য জেলার দুটি নির্দিষ্ট পাম্প থেকে জ্বালানি নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় জরুরি সেবার জন্য একটি করে পাম্প নির্ধারণ করবেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা।
তেলের কৃত্রিম সংকট রোধে প্রতিটি পাম্পে একজন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশ বড় ধরনের চাপে পড়তে পারে। এরই মধ্যে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।


