পাঁচ বছর সুযোগ থাকলেও দ্রুত নির্বাচন চান চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘আদালতের রায়ে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনের সুযোগ থাকলেও তিনি দীর্ঘ সময় পদে থাকার পক্ষে নন।’
জনগণের প্রত্যাশা ও আস্থা পুনর্গঠনের জন্য অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
টাইমস অব বাংলাদেশের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের মাধ্যমে বৈধ জনপ্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হলে নাগরিক সেবা আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক হবে।’ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার স্বার্থে দ্রুত নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নতুন সরকার প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত প্রশাসনের সামনে অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনর্গঠনের বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।’
স্বচ্ছ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা গেলে জনগণের আস্থা ফিরবে এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘অতীতের নির্বাচনগুলোতে নানা প্রতিবন্ধকতা মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে।’ প্রতিদ্বন্দ্বিতার সমতল ক্ষেত্র না থাকলে জনগণের প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চট্টগ্রামের উন্নয়ন প্রসঙ্গে শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘একটি বড় ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ নগরী হিসেবে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা এখন সময়ের দাবি।’ সমন্বিত ‘নগর সরকার’ কাঠামো ছাড়া আধুনিক নগরায়ন সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময়ে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণার বিষয়টিও তিনি স্মরণ করেন।
বর্তমানে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে নির্বাচিত কাউন্সিলর না থাকায় নাগরিক সেবায় চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানান মেয়র। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করলেও স্থানীয় প্রতিনিধিদের মতো সরাসরি জনসম্পৃক্ত সেবা দেওয়া কঠিন হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যার কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রয়োজনীয় বাজেট ও সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হলেও নিজস্ব অর্থায়নে ড্রেন ও খাল পরিষ্কারের কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান। পর্যাপ্ত বরাদ্দ পেলে টেকসই সমাধান সম্ভব বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারির নির্বাচনে রেজাউল করিম চৌধুরীকে মেয়র ঘোষণা করা হয়। পরে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন শাহাদাত হোসেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ১৯ আগস্ট রেজাউল করিম ও কাউন্সিলরদের অপসারণ করে। পরবর্তীতে ১ অক্টোবর আদালতের রায়ে শাহাদাত হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করা হয় এবং ৫ নভেম্বর তিনি দায়িত্ব নেন।


