সামাজিক মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের পোস্টের প্রতিবাদে ‘ঝাড়ু মিছিল’ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী।
রোববার বেলা ২টার দিকে রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নারী নেতাকর্মীদের ‘ঝাড়ু হাতে’ অংশ নিতে দেখা যায়। পরে তারা সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে।
এ সময় প্রতিবাদকারীরা ‘বয়কট বয়কট -জামায়াত আমির বয়কট’, ‘নারী বিদ্বেষীর দুই গালে- ঝাড়ু মারো তালে তালে’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
আন্দোলনকারীদের ব্যানারে এবং বক্তব্যে ‘নারীর শ্রমের সম্মান নিশ্চিত করতে হবে’ এবং ‘বেশ্যাকরণ প্রথার বিলুপ্তির’ দাবি জানানো হয়।
শনিবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নারীদের ঘরের বাইরে কাজ করতে যাওয়াকে ‘পতিতাবৃত্তির’ সঙ্গে তুলনা করা হয়।
অবশ্য পোস্টের কয়েক মিনিটের মধ্যেই জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, আমিরের এক্স হ্যান্ডেলটি হ্যাক করা হয়েছে। তিনি এ ধরনের কোনো পোস্ট করেননি। তবুও পোস্টটি ভাইরাল হয়ে পড়ায় সামাজিকমাধ্যমে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা জামায়াত আমিরকে প্রকাশ্য ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। তারা কঠোর ভাষায় বলেন, কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেওয়া এক শিক্ষার্থী সীমা আক্তার বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন নারীদের অধিকার নিয়ে কথা বললেই অনলাইনে বুলি করা হয়। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা ভুয়া ও বট আইডির মাধ্যমে নারীদের সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে আক্রমণ চালাচ্ছে।’
আন্দোলনকারীদের একজন বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি সংকট ও সংগ্রামে নারীরা ঘরে-বাইরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তারপরও নারীদের উদ্দেশ্য করে এমন বক্তব্য নারীবিদ্বেষী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।’
সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি মুক্তা বারই বলেন, ‘জামায়াত আমিরের বক্তব্যকে “আইডি হ্যাক” বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। জনগণের সামনে এর প্রমাণ দিতে হবে।’
সুস্মিতা সরকার নামের আরেক প্রতিবাদকারী বলেন, ‘এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ধারাবাহিকভাবে এমন বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, যেটা ক্ষমার যোগ্য না।’ তিনি আগামী নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে এর জবাব দেওয়ারও আহ্বান জানান।


