কুমিল্লায় জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষে আহত ৫

কুমিল্লায় জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষে আহত ৫
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে বিএনপি নেতার বাড়ি ভাঙচুর, জামায়াতের তিনটি নির্বাচনী কার্যালয়, একটি মুদি দোকান ও একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাসে আগুন দেওয়া হয়। সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

সোমবার সরেজমিনে গিয়ে এসব ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে আগুন দেওয়ার ঘটনায় একে অপরকে দায়ী করছে দল দুটি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের ধনিজকরা গ্রামে বিএনপি নেতা বাচ্চু মিয়ার বাড়িতে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালায়।

এ সময় বাড়িঘর কুপিয়ে তছনছ করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। বাচ্চু মিয়ার অভিযোগ, এদিন বিকালে রাজনৈতিক বাগ্‌বিতণ্ডার জের ধরে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা তার বাড়িতে হামলা চালিয়েছে।

একই রাতে ধনিজকরা গ্রামে জামায়াতের একটি নির্বাচনী কার্যালয়ে দেওয়া হয়। পরে, সোমবার রাত ২টার দিকে পার্শ্ববর্তী গাছবাড়িয়া গ্রামের তেলিপুকুরপাড় এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা মুখোশধারী তিন যুবক জামায়াতের আরেকটি নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে কার্যালয়টি ও পাশের একটি মুদি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

পুড়ে যাওয়া দোকান মালিক নাছির জানান, এতে অন্তত ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এ ছাড়া, একই রাতে কালিকাপুর ইউনিয়নের সমেশপুর মোসলেম মার্কেটে জামায়াতের আরেকটি নির্বাচনী অফিসে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

একই দিন ভোরে বাতিসা ইউনিয়নের আয়েশা ছিদ্দিকা (রা.) মহিলা মাদ্রাসার ছাত্রীদের আনা-নেওয়া করা একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়।

এর জেরে এদিন দুপুরে ধনিজকরা বাজারে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক গাজী ইসমাইল, ছাত্রদল নেতা শাহাদাত হোসেনসহ উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হন।

বাসে আগুন দেওয়ার প্রতিবাদ ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন করেন আয়েশা ছিদ্দিকা (রা.) মহিলা মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

ধনিজকরায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কেটের মালিক শাহাদাত হোসেন গোলাপ অভিযোগ করে বলেন, ‘বিএনপিকর্মীদের দেওয়া আগুনে তার মার্কেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অন্যদিকে, কালিকাপুর ইউনিয়নের সমেশপুর এলাকার এক বাসিন্দা দাবি করেন, দুই ছাত্রদলকর্মী জামায়াতের কার্যালয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়েছে।

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বিএনপি নেতা বাচ্চু মিয়া অভিযোগ করেন, তার ঘর থেকে গরু বিক্রির ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে জামায়াতের নেতাকর্মীরা।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. বেলাল হোসাইন বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে চৌদ্দগ্রামকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে। জনসমর্থন না থাকায় তারা জ্বালাও-পোড়াও করে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চায়।’

অন্যদিকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী শাহ আলম রাজু বলেন, ‘রোববার রাতে জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিএনপি সমর্থক বাচ্চু মিয়ার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। একই সঙ্গে ধনিজকরায় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ও ভাঙচুর করা হয়েছে।’

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. গুলজার আলম বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পাল্টাপাল্টি আগুন দেওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad