কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার এক সাবেক ইউপি সদস্যকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় তার বাড়ি থেকে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ব্যবহৃত পোশাক, ওয়াকিটকিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
আটক ব্যক্তি হলেন হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মোস্তফা কামাল। তিনি হোয়াইক্যং বালুখালী খারাংঘা ঘোনা এলাকার দুই নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
শনিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহ জালাল।
বিজিবি জানায়, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাবেক ওই ইউপি সদস্যের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি (আরএআর) নবী হোসেন বাহিনীর ব্যবহৃত পোশাকসহ সন্দেহজনক আরও বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ সময় তাকে আটক করা হয়।
সম্প্রতি টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রীজ সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমারের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মি (এএ) ও কয়েকটি রোহিঙ্গা সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষে পরাজিত হয়ে নবী হোসেন গ্রুপের সদস্যরা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে বলে জানায় বিজিবি।
টেকনাফ থানা জানায়, গত ১১ জানুয়ারি টেকনাফ হোয়াইক্যং লম্বাবিল সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যসহ মোট ৫৭ জনকে বিজিবি আটক করে থানায় হস্তান্তর করে। যাচাই-বাছাই শেষে নাফ নদীতে মাছ আহরণকারী দুইজন বাংলাদেশি নাগরিকসহ নিরীহ চারজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অবশিষ্ট ৫৩ জনের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ আইনে বিজিবির উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়নের সদস্য নায়েক সরওয়ারুল মোস্তফা বাদী হয়ে ঐদিন রাতে টেকনাফ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিদের মধ্যে একজন গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
গত ১৩ জানুয়ারি দুপুরে মামলার এজাহারভুক্ত ৫২ জন আসামিকে কক্সবাজার আদালতে হাজির করা হলে আদালত শুনানি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, পালিয়ে আসা ওই রোহিঙ্গা সশস্ত্র সদস্যরা তাদের ব্যবহৃত পোশাক ও বিভিন্ন সরঞ্জাম মোস্তফা কামালের বাড়িতে গোপনে সংরক্ষণ করে রেখেছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উদ্ধার করা মালামাল ও আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে বলে বিজিবি সূত্র নিশ্চিত করেছে।


