চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আবু সুফিয়ান বলেছেন, সম্প্রতি বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর গুলি ও হত্যাকাণ্ডকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, ‘এসব সহিংসতা পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার ষড়যন্ত্রের অংশ।’
রোববার দুপুরে নগরীর জামালখানের একটি রেস্টুরেন্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আবু সুফিয়ান বলেন, ‘যারা নির্বাচন চায় না, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে চায় তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত।’
তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে গুলির ঘটনা এবং ঢাকায় ওসমান হাদির নিহত হওয়ার ঘটনাগুলো গভীরভাবে উদ্বেগজনক।
এসব ঘটনা নির্বাচনের স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আবু সুফিয়ান বলেন, ‘অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু ও নিরাপদ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।’
নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট বিদায় হয়েছে। জনগণের মধ্যে নতুন স্বপ্ন জেগেছে। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দেশ পরিচালনা করবেন।’
তিনি জানান, মানুষের মধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিপুলসংখ্যক ভোটার ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হবে।
বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে ক্ষমতাকে ভোগের বিষয় হিসেবে নেবে না উল্লেখ করে আবু সুফিয়ান বলেন, ‘দল এটিকে পবিত্র আমানত হিসেবে ধরে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করবে।’ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
নির্বাচনী প্রচারণা প্রসঙ্গে তিনি জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু করবে বিএনপি। তবে এর আগে মানুষের সঙ্গে দলের গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে আবু সুফিয়ান বলেন, ‘জামায়াত ও এনসিপির কেউ যদি আগেভাগে ভোট চেয়ে থাকেন, তাহলে তা আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’ তিনি জানান, বিএনপি আইন ও বিধি মেনে নির্বাচনী মাঠে থাকবে।
তিনি বলেন, ‘একসময় নির্বাচন ছিল উৎসবমুখর। মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দের সঙ্গে ভোট দিতে যেত, কিন্তু বিগত সরকার ভোটের দিনকে আতঙ্কের দিনে পরিণত করেছিল।’
সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে এবার অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন দেখতে চান বলে জানান তিনি।
আবু সুফিয়ান বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন, সেনাবাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ভোটারদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন ভোটদানের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।’ সে আশ্বাসে আস্থা রাখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণ সচেতন থাকলে কোনো অপশক্তি নির্বাচনী পরিবেশ ঘোলাটে করতে পারবে না।’


