চাঁপাইনবাবগঞ্জের ওয়াহেদপুর সীমান্তে দুই বাংলাদেশি যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে।
ওই দুই যুবক গত তিন দিন থেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
রোববার রাত ২টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার ওয়াহেদপুর এলাকা এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন–উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের গাইপাড়া গ্রামের মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে ইব্রাহিম রিংকু (২৮) ও পাঁকা ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের আমিনুল ইসলামের ছেলে মমিন মিয়া (২৯)।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বিষয়টি নিশ্চিত না করলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের দাবি, তাদের পিটিয়ে হত্যা করে পদ্মা নদীতে ফেলে দিয়েছে বিএসএফ।
পাঁকা ইউনিয়নের সদস্য রফিক উদ্দিন জানান, শুনেছি দুজনকে পিটিয়ে হত্যার পর তাদের মরদেহ পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, রোববার রাত ২টার দিকে ওয়াহেদপুর বিওপির পাশ দিয়ে সীমান্তে গরু আনতে যান চার থেকে পাঁচজনের একটি দল।
এ সময় ভারতের নিমতিতা বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা রিংকু ও মমিনকে পিটিয়ে হত্যা করে পদ্মা নদীতে মরদেহ ভাসিয়ে দেয়।
পরে তারা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারেন, আটক দুজনকে বেধড়ক পিটিয়ে মেরে পদ্মা নদীতে ফেলে দিয়েছে বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা।
এ বিষয়ে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার তথ্য জানাতে অপারগতা জানিয়েছে।
মমিনের দুই প্রতিবেশী ভারতীয় স্বজনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, তাদের পিটিয়ে মেরে পদ্মায় মরদেহ ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। আইনি জটিলতা বা হয়রানির ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ এ নিয়ে কথা বলতে রাজি হচ্ছে না।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক কাজী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ কথা শুনেছি তবে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারিনি। নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো অভিযোগ করেননি।
এ বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে কয়েক দফা যোগাযোগ করা হয়েছে, কিন্তু তারা এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন বলে জানান তিনি।


