ভূমিকম্পে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীতে এ পর্যন্ত অন্তত দশ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
শুক্রবার সকালে ভূমিকম্পে পুরান ঢাকার বংশালের কসাইটুলিতে আটতলা ভবনের রেলিং ধসে পড়ে তিনজন পথচারী নিহত হন।
নিহতদের একজন সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাফিউল ইসলাম। তিনি মা ও বোনের সঙ্গে বংশালের কসাইটুলিতেই থাকতেন। এ ঘটনায় রাফির মা নুসরাতও গুরুতর আহত হয়েছেন। অস্ত্রোপচারের পরও তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
নিহত অপর দুইজন হলেন আব্দুর রহিম (৪৮) ও তার ১২ বছর বয়সী ছেলে মেহরাব হোসেন রিমন। নিহতদের মরদেহ মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকার মুগদার মদিনাবাগ এলাকায় ভূমিকম্পে নির্মাণাধীন ভবনের রেলিং ধসে পড়ে মাকসুদ ( ৫০) নামের এক নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু হয়।
শুক্রবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে মদিনাবাগ মিয়াজি গলিতে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা তাকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মুগদা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জানান, ‘মাকসুদ মদিনাবাগ মিয়াজী গলির নির্মাণাধীন ভবনের নিরাপত্তাকর্মী। ভূমিকম্পের সময় ভবন থেকে বাইরে যাচ্ছিলেন তিনি। এসময় ভবনের ওপর থেকে রেলিং ভেঙে তার মাথার উপর পড়ে। এতে গুরুতর আহত হন তিনি।’
এসআই আরও জানান, খবর পেয়ে দুপুরে মুগদা হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত মাকসুদের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চড়সীতা গ্রামে।

এদিকে নরসিংদী সদরের গাবতলী এলাকায় বাড়ির সানশেড ভেঙ্গে চাপা পড়ে ওমর (১০) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন শিশুটির বাবা ও দুই বোন।
শুক্রবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে স্বজনরা ওমর ও তার বাবাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। সেখানে চিকিৎসক শিশু ওমরকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ওমরের বাবা দেলোয়ার হোসেন মারা যান। ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভূমিকম্পের পর আহত অবস্থায় বাবা ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তখনই চিকিৎসক ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন। বাবাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পরে তিনিও মারা যান।
শিশু ওমরের বাবা দেলোয়ার হোসেন কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। নরসিংদীর গাবতলী এলাকায় ভাড়া থাকতেন তারা।
শিশুটির চাচা জাকির হোসেন জানান, ভূমিকম্পের সময় দেলোয়ার হোসেন তার তিন সন্তানকে নিয়ে বাইরে যাচ্ছিলেন। এ সময় বাসার সানশেড ভেঙে তাদের ওপর পড়ে। এতে তারা সবাই গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে বাবা ও শিশু সন্তান ওমরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
দেলোয়ার হোসেনের দুই মেয়ে নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে বলেও জানান তিনি।

নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবু তাহের মো. সামসুজ্জামান জানান, একই সময়ে পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের মালিতা পশ্চিমপাড়া গ্রামের কাজেম আলী ভূঁইয়া (৭৫) নামে এক বৃদ্ধ মাটির ঘরের নিচে চাপা পড়ে মারা যান।
নরসিংদীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইনের পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ডাংগা ইউনিয়নের ইসলামপাড়া নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নাসিরউদ্দিন ভূমিকম্পের সময় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ফসলি জমি থেকে আতঙ্কিত হয়ে দৌড়ে আসার পথে রাস্তা থেকে নিচে লাফ দিয়ে পড়ে মারা যান বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আনোয়ার হোসাইন আরও জানান, শিবপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের গআজকিতলা (পূর্বপাড়া) গ্রামের ফোরকান (৪০) ভূমিকম্পের সময় গাছ থেকে পড়ে যান। তাকে তাৎক্ষণিক নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা ঢাকা মেডিকেলে রেফার করে। ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এ ছাড়া ভূমিকম্পে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণপাড়া এলাকায় বাড়ির সীমানা দেয়াল ধসে ফাতেমা খাতুন নামে ১০ মাস বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে। এ সময় শিশুটির মাসহ আরও দুইজন নারী আহত হন।

এই ভূমিকম্পে সারাদেশে অনেকে আহত হয়েছেন।
শুক্রবার বেলা ১০টা ৩৮ মিনিটে ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে বাংলাদেশ ও ভারতের কিছু অংশ।
ইউএসজিএস জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৫। তবে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর ঘোড়াশাল থেকে সাত কিলোমিটার দূরে এবং ভূমিপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে।


