হাজতখানা পরিদর্শনে দুই বিদেশি

হাজতখানা পরিদর্শনে দুই বিদেশি
Advertisement
Advertisement

নিয়মিত মামলার শুনানিতে অংশ নিতে ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে। তারা যখন হাজতখানায় অপেক্ষায় ছিলেন, সেসময় তাদের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেন দুই বিদেশি নাগরিক ম্যাথিয়াস জিজেরিস ও মার্টিনা বুকার্ড।

পুলিশের নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে কীভাবে দুই বিদেশী আওয়ামী লীগ সরকারের দুই হেভিওয়েট ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেলেন তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।

পরে জানা গেল, জার্মানি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত একটি প্রকল্পের কাজের অংশ হিসেবে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানা পরিদর্শন করেন তারা। বন্দীদের সঙ্গেও কথা বলার সূচি ছিল তাদের। অনেকটা কাকতালীয়ভাবেই হাজতখানায় তারা পেয়ে যান আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে।

বুধবার ঘটেছে এসব ঘটনা।

হাজতখানার ইনচার্জ এসআই জায়েদ বলেন, ‘দু’জন বিদেশি এনজিও কর্মী বুধবার আদালত পরিদর্শনে আসেন। এসময় ডিসি (প্রসিকিউশন) তারেক জুবায়ের স্যারসহ সিএমএম আদালতের কয়েকজন ম্যাজিস্ট্রেট সঙ্গে ছিলেন।’

আরও পড়ুন

তিনি এটাও জানান যে, দুই বিদেশি নাগরিক আদালতের হাজতখানা পরিদর্শনে করলেও কোনো আসামির সঙ্গে দেখা করেননি।

আদালতের একাধিক সূত্র টাইমস অব বাংলাদেশকে জানিয়েছে, হাজতখানায় গিয়ে তারা বন্দীদের সঙ্গে কথা বলে সুবিধা-অসুবিধা জানতে চান। অন্য সাধারণ বন্দীদের মতোই হাজতখানায় থাকা সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের সঙ্গেও কথা বলেন।

তবে পুলিশের উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) তারেক জুবায়ের বলেন, ‘বুধবার দুজন বিদেশি এনজিও কর্মী “একসেস টু জাস্টিস” প্রজেক্টের আওতায় আদালত পরিদর্শনে এসেছিলেন। তারা হাজতের নির্দিষ্ট কোনো আসামির সঙ্গে দেখা করেনি। শুধু পরিদর্শন করেছেন।’

এ বিষয়ে পুলিশের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জার্মানির উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেড এর প্রতিনিধিরা ঢাকা জেলা আদালত পরিদর্শন করেছেন। এটি অ্যাকসেস টু জাস্টিস ফর উইমেন; আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগ এবং জিআইজেড-বাংলাদেশের একটি যৌথ প্রকল্প।

প্রকল্পটি জার্মান ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে দরিদ্র ও অসহায় জনগণ বিশেষত নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকারে অভিগমত্য বৃদ্ধি, কমিউনিটি পর্যায়ে বিরোধ মীমাংসা এবং সুষ্ঠু মামলা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মামলা জট নিরসনে কাজ করছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী ও সমাজের বঞ্চিত অংশের জন্য ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।

প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনের জন্য জিআইজেডের এশিয়া-প্যাসিফিক, ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের প্রধান ম্যাথিয়াস জিজেরিস ও প্রকল্পের প্রধান মার্টিনা বুকার্ড মঙ্গলবার ঢাকা জেলা আদালত পরিদর্শন করেন। সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল ঢাকা জেলা আদালত সমুহে প্রকল্পের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, জেলা লিগ্যাল এইড অফিস ও সংশ্লিষ্ট আদালতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি আলাপ-আলোচনা করা।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর