ঢাকা মহানগরের ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত ও পরিকল্পিত উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার এস এম সাজ্জাত আলী।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (জাইকা) পরিচালিত ‘ঢাকা রোড ট্রাফিক সেফটি প্রজেক্ট’ (ডিআরএসপি) সমাপনী উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘যানজট ঢাকা শহরের বড় চ্যালেঞ্জ। এর মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে সহনীয় পর্যায়ে আনতে কাজ করছে পুলিশ।’
তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মাথায় রেখে নগরায়ণ করতে হবে। নাগরিকরা সড়ক পরিবহন আইন মেনে চললে সড়ক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাইকার চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তোমোহিদে ইচিগুচি বলেন, ডিআরএসপি কেবল একটি প্রকল্প নয়; এটি একটি অঙ্গীকার।
তিনি আরও বলেন, ‘২০২১ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল ঢাকা মহানগরের সড়ককে আরও নিরাপদ করা। এতে ডিএমপিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সহযোগিতার জন্য তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।’
বাংলাদেশ বর্তমানে জাপানের অফিসিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিসট্যান্স (ওডিএ) গ্রহণকারী শীর্ষ দেশগুলোর একটি এবং বছরে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার সহায়তা পাচ্ছে। ভবিষ্যতেও জাইকা বাংলাদেশের পাশে থাকবে, যোগ করেন তিনি।
তোমোহিদে ইচিগুচি বলেন, ‘সড়ক নিরাপত্তা এমন একটি ধাপভিত্তিক প্রক্রিয়া, যা সচেতনতা দিয়ে শুরু হয়, সমন্বয়ে এগোয় এবং অঙ্গীকারের মাধ্যমে টেকসই হয়।’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে প্রকল্প পরিচালক ও ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো জিললুর রহমান বলেন, জাইকার অর্থায়নে ডিআরএসপি প্রকল্প সফল সমাপ্তির পথে। অর্জিত অভিজ্ঞতা ঢাকা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে।
জাইকার তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে প্রকল্পটির আওতায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ৪৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬ হাজার ৪০০ শিক্ষার্থীকে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
সেমিনারে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কোঅর্ডিনেশন অথরিটি, অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট, বিআরটিএ ও বিআরটিসির প্রতিনিধি, জাইকা কর্মকর্তাসহ ডিএমপির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


