আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশু মৃত্যুর ঘটনাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ আখ্যা দিয়ে জাতীয় সংসদে এ ঘটনায় হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
তিনি বলেন, ছয় শিশু মৃত্যুর ঘটনায় যদি একটি হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়, তাহলে হামে এত শিশু মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেন পদত্যাগ করবেন না—সে প্রশ্নও উঠতে পারে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, আদ-দ্বীন হাসপাতাল গরিব মানুষের চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এমন একটি হাসপাতাল বন্ধ করে সরকার আসলে কী বার্তা দিতে চায়, সেটিও স্পষ্ট হওয়া দরকার।
বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি দেশের উন্নয়ন বৈষম্যের বিষয়টিও তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, ‘ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত গেলে মনে হয় বাংলাদেশ উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছে গেছি আমরা। কিন্তু ভাঙ্গা পার হওয়ার পরই যেন চিত্র বদলে যায়; তখন মনে হয় অজপাড়াগাঁয়ে প্রবেশ করা হয়েছে।’ এই বৈষম্য দূর করে সারাদেশে সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।
সরকারের বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে নির্ধারিত ব্যয়ের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি দেশবাসী দেখেছে। বর্তমান সরকার যেসব মেগা প্রকল্প হাতে নিচ্ছে, সেগুলোতেও একই ধরনের অতিরিক্ত ব্যয় হবে না—এমন নিশ্চয়তা নেই।
শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শুধু বড় প্রকল্প ঘোষণা করলেই হবে না, বরং ব্যয়ের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে না।


