জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংসদে ওয়াকআউট করা বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার।
তিনি বলেন, ‘আমরা যখন বিরোধী দলে ছিলাম, তখন আমরাও অনেক ওয়াকআউট করেছি এবং এটি একটি প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক চর্চা। তবে দীর্ঘসময় ধরে সংসদ বয়কট করার সংস্কৃতি গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়; এতে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জনগণ তাদের কাঙ্ক্ষিত অধিকার হারিয়ে ফেলে।’
শনিবার দুপুরে বরিশাল সার্কিট হাউজে চেম্বার অব কমার্স নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিরোধী দল যেন কারণে-অকারণে সংসদ বয়কট না করে।
একইভাবে সরকারি দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তারা যেন বিরোধী দলকে যথাযথ সম্মান ও জায়গা দেয় যাতে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারে। বিশেষ করে যারা স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করেছে, তাদের মধ্যে এই ঐক্য বজায় রাখা জরুরি।
স্পিকার আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য না থাকলে বিদেশে পালিয়ে থাকা অশুভ শক্তি পুনরায় ফিরে এসে দুঃশাসন কায়েম করতে পারে। তাই নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে যেন জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন না হয়, সেদিকে উভয় পক্ষকে যত্নবান হতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এ দেশ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিগত শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে হাফিজ উদ্দিন বলেন, আমাদের জাতীয় জীবনের বিগত ১৬ বছর ছিল সবচেয়ে অন্ধকার সময়। এই দীর্ঘসময়ে গণতন্ত্র চর্চা ব্যাহত হয়েছে এবং নির্বাচনের নামে প্রহসন করা হয়েছে। গণতন্ত্র না থাকার সুযোগে দেশে হত্যা, লুণ্ঠন ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিদেশে পাচার হয়েছে। ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষের মহান আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশে পুনরায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন গণতন্ত্রের প্রতি অনেক সচেতন এবং তারা এই অধিকারের অতন্দ্র প্রহরী। ভবিষ্যতে আর কোনো স্বৈরশাসক এদেশে প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
এর আগে ভোলা সফর শেষে বরিশাল সার্কিট হাউজে পৌঁছালে স্পিকারকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর তিনি বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে অংশ নেন।


