সুন্দরবনে ‘ভারতীয় জলদস্যুর’ হাতে অপহৃত ৬ বাংলাদেশি

সুন্দরবনে ‘ভারতীয় জলদস্যুর’ হাতে অপহৃত ৬ বাংলাদেশি
সুন্দরবনের গহীন থেকে ৬ জেলেকে অপহরণ করল ভারতীয় জলদস্যুরা। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকে ভারতীয় জলদস্যুরা ছয় বাংলাদেশি জেলেকে অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অপহৃত জেলেদের সহযোগীরা জানিয়েছেন, পশ্চিম সুন্দরবনের মামুন্দো ও বৈকেরি নদীর বিভিন্ন খাল থেকে বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সময়ে রাশিদুল ইসলাম ও আতাউর রহমানসহ ছয় জেলেকে অপহরণ করা হয়।

অপহৃত অন্য চার জেলের নাম পরিচয় জানা না গেলেও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নৌকার মালিক মোশারফ হোসেন।

এই জেলেরা সবাই সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কালিঞ্চি ও টেংরাখালী গ্রামের বাসিন্দা।

টেংরাখালী গ্রামের জেলে নুরুল হক জানান, দুদিন আগে বনবিভাগের অনুমতিপত্র নিয়ে তিনিসহ তিনজন সুন্দরবনে মাছ ধরতে যান। বুধবার বেলা ১১টার দিকে ভারতীয় বড় একটি বোট নিয়ে এসে জলদস্যুরা তাদের অপহরণের চেষ্টা চালায়। এসময় তারা তিনজন নৌকা ছেড়ে বনের মধ্যে উঠে গেলে দস্যুরা শুধু নৌকা নিয়ে চলে যায়।

স্থানীয় জেলেরা বলছেন, মুক্তিপণের দাবিতে তাদের সঙ্গীদের উঠিয়ে নেয় ভারতীয় জলদস্যুরা। নয় সদস্যের জলদস্যু দলটি চারটি আগ্নেয়াস্ত্র ও একটি ভারতীয় নৌযান নিয়ে সকালের দিকে ওই জেলেদের নৌকায় হামলা করে। এসময় অপহৃত হন দুজন। পরে দুপুরের দিকে চারটি আলাদা নৌকা থেকে আরও চারজনকে মুক্তিপণের জন্য জিম্মি করে ভারতীয় দস্যুরা।

আরও পড়ুন

নৌকা মালিক মোশারফ হোসেন আরও জানান, জলদস্যু দলটি নিজেদের কাজল-মুন্না বাহিনী বলে পরিচয় দিয়েছে। এরই মধ্যে জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পাওয়া জেলেদের মাধ্যমে তারা নিশ্চিত হয়েছে তারা ভারতীয় জলদস্যু। সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া তিন বনদস্যু মুক্তিপণের টাকা ভারতে পাঠানোর কথাও পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

লোকালয়ের কাছাকাছি এলাকা থেকে বাংলাদেশি জেলেদের অপহরণের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পুলিশের সাথে শতাধিক গ্রামবাসী সীমান্তবর্তী নদীতে অবস্থানরত দস্যুদের ধরতে রওনা হলে বিজিবি সদস্যরা মাঝপথে তাদের আটকে দেয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেন, ‘দুই সপ্তাহ আগে যশোরের বিভিন্ন এলাকা থেকে একই জলদস্যু বাহিনীর তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার একইভাবে আরও কয়েকজন জেলে অপহরণের খবর পেয়ে অপহৃত জেলের পরিবারসহ গ্রামবাসীদের ডাকে সাড়া দিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েও ঊর্ধ্বতন বিজিবি কর্মকর্তাদের অনুমতি না পাওয়ায় ফিরে এসেছেন।’

 

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad