এবার সালমান, আমির ও রোহিতের নিরাপত্তা জোরদার

এবার সালমান, আমির ও রোহিতের নিরাপত্তা জোরদার
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার পর মুম্বাইয়ে তারকাদের নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। সালমান খান, আমির খান ও নির্মাতা রোহিত শেঠির বাড়ির আশপাশে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি ও টহল।

এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তাদের দাবি, বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রলোভন দেখিয়ে এ হামলায় যুক্ত করা হয়েছিল।

রোববার সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহুতে টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনকে সোমবার সকালে রাজস্থানের কোটা থেকে পুনে-জয়পুর সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস ট্রেনে গ্রেপ্তার করা হয়।

মুম্বাই পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সালমান খান ও রোহিত শেঠির বাড়িতে আগে থেকেই নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল। তবে নতুন করে স্থানীয় থানার একটি পুলিশ গাড়ি সেখানে সার্বক্ষণিক নজরদারি করবে। বান্দ্রায় আমির খানের বাড়ির আশপাশেও টহল বাড়ানো হয়েছে। টাইগার শ্রফকেও দেওয়া হয়েছে পুলিশি নিরাপত্তা ।

পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার তিনজন হলেন ফুল সিং (১৮), হৃতিক মাহাতো (২২) ও রেহান রাহিসুদ্দিন (১৮)। হামলার সময় মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন মাহাতো। অন্য দুজন গুলি ছোড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কোটা পুলিশ সুপার তেজস্বনী গৌতম জানান, অভিযুক্তদের অর্থের প্রলোভন দেখানোর পাশাপাশি বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। পুলিশের দাবি, এ চুক্তির অংশ হিসেবে রেহান ৩৭ হাজার রুপি পেয়েছিলেন। অভিযুক্তরা অনিল পণ্ডিত নামে এক ব্যক্তির কথা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন

পুলিশের ধারণা, তারকাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। এক কর্মকর্তা বলেন, টাইগার শ্রফের সঙ্গে সে সময় ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী না থাকাকে হামলাকারীরা সুযোগ হিসেবে দেখে থাকতে পারে। তবে হামলার আগে টাইগারের পক্ষ থেকে কোনো হুমকির অভিযোগ পুলিশের নথিতে ছিল না।

ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি গ্যাংয়ের সদস্য অনিল পণ্ডিত একটি অডিও বার্তায় হামলার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। সেখানে তিনি লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নামে দায় স্বীকারের একটি পোস্ট ছড়িয়েছে। তবে পুলিশ এখনো এসব দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি কিংবা হামলার সঙ্গে গ্যাংটির যোগসূত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।

মুম্বাই পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার পর অভিযুক্তরা তিনজন একসঙ্গে মোটরসাইকেলে চড়ে আন্ধেরি রেলস্টেশনে যান। সেখান থেকে ট্রেনে বোরিভলি এবং পরে গাড়িতে গুজরাটের সুরাটে পৌঁছান। সুরাট থেকে ট্রেনে চড়ে কোটা যাওয়ার পথে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্তদের কাছ থেকে কোনো অস্ত্র উদ্ধার হয়নি।

মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ জানিয়েছেন, হামলার পেছনে কারা রয়েছে এবং এতে আর কেউ জড়িত কি না, তা জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মামলাটি মুম্বাই পুলিশের অপরাধ শাখার অ্যান্টি-এক্সটরশন সেলে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশের ধারণা, বলিউড তারকাদের লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলার মাধ্যমে ভয় তৈরি করে চাঁদাবাজির চেষ্টা করা হচ্ছে। নব্বইয়ের দশকেও দাউদ ইব্রাহিম ও ছোট রাজনের গ্যাং চলচ্চিত্রজগতে একইভাবে আতঙ্ক ছড়িয়ে ‘প্রোটেকশন মানি’ আদায়ের চেষ্টা করেছিল বলে উল্লেখ করেছেন কর্মকর্তারা।

 

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad