প্রথমবারের মতো ২০১৮ ও ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচন বিতর্কিত ছিল বলে স্বীকার করলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। যুক্তরাষ্ট্রে এক সংবাদ তিনি একথা স্বীকার করেন।
এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে শেখ হাসিনা আবারও দেশে ফেরার কথা জানালেও দেশে ফেরার কোনো মাস-দিন-ক্ষণ উল্লেখ করেননি। গত ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের মুখে সরকার পতনের পর পালিয়ে গিয়ে দিল্লিতে অবস্থান করছেন তিনি।
সোমবার বাংলাদেশ সময় রাতে ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে সেন্টার ফর ইউএসএ-বাংলাদেশ রিলেসন্স। এতে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন সজীব ওয়াজেদ জয়। সংবাদ সম্মেলনের মাঝামাঝি সময় অডিওতে ভার্চুয়ালি যোগ দেন নয়াদিল্লিতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী কোনো গণমাধ্যমের প্রতিনিধি না থাকলেও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির একজন প্রতিনিধি এবং ভারতীয় কয়েকটির সংবাদপত্রের প্রতিনিধি যোগ দেন।
শেখ হাসিনা তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে বাংলাদেশে বর্তমানে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের অধিকার নেই বলে অভিযোগ করেন। এসব পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন কামনা করেন। তবে তিনি তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে দেশে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে কিছু বলেননি।
ইন্ডিয়া টুডে’র এক সাংবাদিক তার প্রশ্নে বলেন, শেখ হাসিনা আগেই ডিসেম্বরে দেশে ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। দেশে ফিরে গেলে তার জীবন বিপন্ন হওয়ার শঙ্কা আছে কিনা জানতে চান এই সাংবাদিক।
জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি নানা সময় হামলা-জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন। তাই তিনি আর এসবকে ভয় পান না। দেশের বিপন্ন মানুষ ও নির্যাতিত আওয়ামী লীগ কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে দেশে ফিরে যাবেন।
নিউজম্যাগ নামের এক সংবাদমাধ্যমের একজন সাংবাদিক ২০২৪ সালে অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রভাব বিস্তার, বিরোধীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানির অভিযোগ নিয়ে জয়ের মতামত জানতে চান।
জবাবে এসব অভিযোগ সম্পর্কে একমত প্রকাশ করেন জয়। এছাড়া তিনি নিজেই ২০১৮ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, সেই নির্বাচনের আগে জনমত জরিপগুলোতে আওয়ামী লীগের ভূমিধস জয়ের পূর্বাভাস ছিল। কিন্তু সামরিক গোয়েন্দাসহ সরকারি কিছু সংস্থা নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করার জন্য যা যা করার দরকার সেসব করেছে।
জয় জানান, তিনি সরকারি সংস্থাগুলোর এসব কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করেছিলেন; কিন্তু তারা কর্ণপাত করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্কের অবনতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জয় বলেন, ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের কয়েকজন কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে ক্রমাগত ভুল তথ্য দিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। এই জবাব দেওয়ার শুরুতেই তিনি প্রথমবারের মতো নিজেকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক’ বলে জানান।
আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে মার্কিন দূতাবাস, আইআরআই এবং ইউএসএআইডি’র ভূমিকার কথাও বলেন সজীব ওয়াজেদ জয়।


