ফের টেকনাফের গহীন পাহাড় থেকে ৬ জিম্মি উদ্ধার

ফের টেকনাফের গহীন পাহাড় থেকে ৬ জিম্মি উদ্ধার
টেকনাফের পাহাড় থেকে পাঁচ কিশোরসহ উদ্ধারকৃত ৬ জন
Advertisement
Advertisement

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের গহীন পাহাড় থেকে রোহিঙ্গাসহ ছয় জনকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এদের পাচারেরর জন্য জিম্মি করে আটকে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে বিজিবি। এসময় অস্ত্র-গুলিসহ একজন মানবপাচারকারীকেও আটক করার কথা জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার ভোরে এ অভিযান চালানো হয় বলে বিকালে জানান টেকনাফ বিজিবি-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান।

বিজিবি জানায়, গত তিন দিন ধরে পাহাড়ে কিছু মানুষকে পাচারের উদ্দেশ্যে আটকে রাখা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে টেকনাফ-২ বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাজারছড়া এলাকার গহীন পাহাড়ে অভিযান চালায়।

অভিযানে মানবপাচার ও ডাকাত চক্রের সদস্য রাজারছড়া এলাকার মোহাম্মদ রুবেলকে (২০) চারটি দেশীয় অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়।

সেখান থেকে যাদের উদ্ধার করা হয় তারা হলো-টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ মাঝেরপাড়ার জিয়াবুল হোসেনের ছেলে রাসেল (১৭), রামুর খুনিয়াপালং এলাকার মোহাম্মদ সুলতানের ছেলে শাহরিয়াজ ইমন (১৯)।

উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের মনখালী এলাকার রফিকের ছেলে মোহাম্মদ ফয়সাল (১৭), উখিয়ার মনখালীর মো. ইলিয়াসের ছেলে মোহাম্মদ এহসান (১৬)। এছাড়া উখিয়ার বালুখালী ৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের হাসিম উল্লাহর ছেলে নজিম উল্লাহ (১২) এবং একই ক্যাম্পের জাফর আলমের ছেলে শহিদুল আমিনকেও (১৫) উদ্ধার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানান, রাজমিস্ত্রির কাজের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে তিন দিন ধরে বন্দী করে রাখা হয়েছিল।

আটক মানবপাচারকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান আশিকুর রহমান।

এর আগে, ৩ অক্টোবর একই এলাকা থেকে নারী ও শিশুসহ ৩৮ জনকে উদ্ধার করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনী। ২ অক্টোবর ২১ জনকে ও ১ অক্টোবর সাত নারী ও এক শিশুকে উদ্ধার করে পুলিশ।

২৩ সেপ্টেম্বর উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়ার গহিন পাহাড়ি এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে পাঁচ যুবককে উদ্ধার করা হয়েছিল।

১৮ সেপ্টেম্বর একই পাহাড়ি আস্তানায় কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী যৌথ অভিযান চালিয়ে ৬৬ জনকে উদ্ধার করে। তাদের মধ্যে ৪৪ জনই নারী-শিশু। উদ্ধার ৬৬ জনের বেশিরভাগই রোহিঙ্গা নাগরিক, বাকিরা বাংলাদেশি। ১৪ সেপ্টেম্বর নারী-শিশুসহ ৮৩ জনকে উদ্ধার করে র‍্যাব ও বিজিবি।

সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের জন্য সীমান্তবর্তী টেকনাফের পাহাড়ি অঞ্চলকে পাচারকারীরা গোপন আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছে বহু দিন ধরেই।

নিয়মিত অভিযানে বহু নারী-শিশু ও যুবককে উদ্ধার করা হলেও পাচারকারীরা নতুন কৌশলে সক্রিয় রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad