নানামুখী দাবিতে শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা

নানামুখী দাবিতে শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা
তিন দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ঘোষণা এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের। ছবি: জান্নাতুল ফেরদাউস/টাইমস
Advertisement
Advertisement

তিন দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। এদিকে পৃথক দাবিতে কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন সরকারি কলেজের শিক্ষকরাও। সোমবার থেকে দেশের সরকারি কলেজ, এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোয় পাঠ দান বন্ধ। ফলে দুই কোটির বেশি শিক্ষার্থীর পাঠকার্যক্রম হুমকির মুখে পড়েছে।

গত রোববার মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া, উৎসব ভাতা ৫০ শতাংশ থেকে ৭৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং চিকিৎসা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধির দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষকরা।

সেদিন বিকালের দিকে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়ে সেখানেই রাত কাটান তারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

সোমবার থেকে দেশজুড়ে এমপিওভুক্ত অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মবিরতি চলছে বলে জানিয়েছেন ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটে’র সদস্যসচিব দেলাওয়ার হোসেন আজিজী। অচলাবস্থা নিরসনে মন্ত্রণালয় একটা সুষ্ঠু ব্যবস্থা নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিন দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ঘোষণা এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের। ছবি: জান্নাতুল ফেরদাউস/টাইমস

বাংলাদেশ শিক্ষক ইউনিয়নের সভাপতি অধ্যক্ষ আবুল বাশার হাওলাদার জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সব এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মবিরতি পালন করবেন শিক্ষকরা।

তিনি আরও বলেন, ‘সারা দেশের ৩০ হাজারের বেশি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় ২ কোটির মতো শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করে। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই সোমবার থেকে কর্মবিরতিতে চলে গেছে।’

সরকারি কলেজের শিক্ষকদের কর্মবিরতি

ঢাকা কলেজে একজন শিক্ষককে হেনস্তার ঘটনায় বিচার দাবি করেছেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন। শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও হামলাকারীদের বিচার দাবিতে দেশের সরকারি কলেজগুলোতে কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেছেন, ‘আপতত ১৪ অক্টোবর সারা দেশের সব সরকারি কলেজে কর্মবিরতি করবেন শিক্ষকরা। ১৫ অক্টোবর সবাই বসে পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করা হবে।’

আরও পড়ুন

বিক্ষুব্ধ ‘সাত কলেজে’র শিক্ষকরা

সোমবার ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’কে কেন্দ্র করে পক্ষে-বিপক্ষে দুটি পৃথক কর্মসূচি পালন করেছেন ঢাকা কলেজের ছাত্ররা। ছাত্রদের একটি কর্মসূচির সময় একজন শিক্ষককে হেনস্তার ঘটনায় কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন সাত কলেজের শিক্ষকরা। এমনকি ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’র কোনো কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত না থাকার সিদ্ধান্তও জানিয়েছেন তারা।

সাত কলেজ স্বাতন্ত্র্য রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ও ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষক মাহফিল আরা বেগম বলেন, ‘দেশে আরও ইউনিভার্সিটি হোক, সেটা আমরাও চাই। তবে তা হোক এই সাত কলেজের বাইরে। রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী কলেজগুলোকে কেন ইউনিভার্সিটিতে অঙ্গীভূত করতে হবে?’

শিক্ষকরা বলছেন, উচ্চ-মাধ্যমিকে অধ্যয়নকারীদের ব্যাপারে কোনো সমাধান নেই। সাত কলেজে চাকরিরত শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ে অঙ্গীভূত করার নিশ্চয়তা নেই। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া অধ্যাদেশ জারি করা উচিত হবে না।

আন্দোলনে ‘সাত কলেজে’র শিক্ষার্থীরা 

ঢাকার সাতটি পুরোনো সরকারি কলেজ নিয়ে প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন-২০২৫’ এর চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারির দাবিতে রাজধানীতে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার শিক্ষা ভবনের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।

তিন দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ঘোষণা এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের। ছবি: জান্নাতুল ফেরদাউস/টাইমস

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, বর্তমানে সাতটি কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সবাইকে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’তে আত্তীকরণ করতে হবে, তিন দিনের মধ্যে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন-২০২৫’ চূড়ান্ত করে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে এবং অধ্যাদেশ জারির ১৫ দিনের মধ্যে উপাচার্য নিয়োগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করতে হবে।

 ১৮তম নিবন্ধনের নিয়োগবঞ্চিতদের আলটিমেটাম

চাকরিতে নিয়োগের দাবিতে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) কার্যালয় ঘোরও কর্মসূচি পালন করেছে ১৮তম নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীরা।

তারা বলছেন, ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় ৬০ হাজার ৫২১ জনকে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ১৯ আগস্ট ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মাত্র ৪১ হাজার ৬২৭ জনকে চাকরির জন্য সুপারিশ করা হয়। ১৬ হাজারের অধিক প্রার্থীকে চাকরির জন্য সুপারিশ করা হয়নি। অথচ ৬০ হাজারের মতো পদ এখনো খালি আছে।

বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সুপারিশবঞ্চিতদের চাকরিতে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।

অনশনে সনদ না পাওয়া চাকরিপ্রার্থীরা

দেড় মাস ধরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি করছেন ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় সনদ না পাওয়া চাকরিপ্রার্থীরা। ৪২ দিন অবস্থান কর্মসূচি পালনের পর গত রোববার থেকে অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন তারা।

অনশনে থাকা চাকরিপ্রার্থী সাজেদুর রহমান বলেন, ‘৮১ হাজার প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেয়। ৬০ হাজার ৫২১ জনকে উত্তীর্ণ দেখিয়ে সনদ দেওয়া হয়। কিন্তু ২০ হাজার ৫৭৫ জনকে কোনো কারণ ছাড়াই সনদ বঞ্চিত করা হয়।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad