দেশে উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জ্বালানি তেল জেট ফুয়েলের দাম টানা চার মাস ধরে বাড়ছে। নভেম্বর মাসে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জ্বালানির দাম আরও ৬ টাকা ৩২ পয়সা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এর আগে অক্টোবরে লিটারপ্রতি দাম বেড়েছিল ১৭ টাকা ৬ পয়সা। তবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য জেট ফুয়েলের দাম কমানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার নতুন দাম ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বিইআরসি। এতে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম শুল্ক ও মূসকসহ ১৮৯ টাকা ৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অক্টোবরে এ দাম ছিল ১৮২ টাকা ৭১ পয়সা। নতুন দর বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম শুল্ক ও মূসকমুক্ত ১ দশমিক ১৮৮২ ডলার থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ১৬৩৭ ডলার করা হয়েছে।
বিইআরসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জেট এ-১-এর প্ল্যাটস রেটের গড় এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এলসি স্টেটমেন্টে ডলারের বিনিময় হার বিবেচনায় নিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। ইরানও ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে পাল্টা হামলা চালায়। সংঘাতের মধ্যে জ্বালানি স্থাপনাগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যায়। পরে যুদ্ধবিরতি শুরু হলে বিশ্ববাজারে দাম কমতে থাকে।
যুদ্ধ শুরুর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ছিল ৯৫ টাকা ১২ পয়সা। মার্চে দুই দফায় দাম বাড়ানো হয় মোট ১০৭ টাকা। এরপর কয়েক মাস দাম কমার পর গত চার মাস ধরে আবার বাড়ছে জ্বালানিটির দাম।
আগে জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব ছিল বিপিসির। তবে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণের বিধান বাতিল করার পর ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনে ফার্নেস অয়েল ও জেট এ-১-এর দাম নির্ধারণের ক্ষমতা বিইআরসিকে দেওয়া হয়।
এরপর ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ প্রথমবারের মতো জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণে গণশুনানি করে বিইআরসি। সেই থেকে প্রতি মাসে জ্বালানিটির দাম সমন্বয় করছে কমিশন। নতুন এ দাম পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।


