গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়া ১৪ মাস বয়সী এক কন্যাশিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার ভোররাতে সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের পূর্ব খামার দশলিয়া গ্রাম থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে সুন্দরগঞ্জ থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম হাবিবুল ইসলাম।
উদ্ধার হওয়া শিশু আদিবা সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চরিতাবাড়ী এলাকার খালেদা বেগম ও আজাহার আলী দম্পতির সন্তান। চার মাস আগে তাদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর জীবিকার তাগিদে আদিবাকে খালার কাছে রেখে ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করতে যান খালেদা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির বাবা আজাহার আলী জুয়া ও মাদকে আসক্ত। মায়ের অনুপস্থিতির সুযোগে গত ১ অক্টোবর খালার কাছ থেকে বিস্কুট কিনে দেওয়ার কথা বলে আদিবাকে নিয়ে যান তিনি। কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও শিশুটিকে ফেরত না দেওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তার মা ও খালার পরিবারের সদস্যরা।
পরে তারা জানতে পারেন, নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে করা একটি হলফনামায় খালেদা বেগমকে মিথ্যাভাবে মৃত দেখিয়েছেন আজাহার। এরপর সাদুল্লাপুর উপজেলার পূর্ব খামার দশলিয়া গ্রামের রুহুল আমীনের পরিবারের কাছে ৪০ হাজার টাকায় শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় শিশুটিকে উদ্ধার ও আইনগত সহায়তা চেয়ে গত ২৭ অক্টোবর সুন্দরগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেন খালেদা বেগম। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ভোররাতে সাদুল্লাপুর থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে। একই দিন সন্ধ্যায় তাকে সুন্দরগঞ্জ থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম হাবিবুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে দিনভর অভিযান চালানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জুয়া ও মাদকের অর্থ জোগাড় করতেই শিশুটিকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


