জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সাভারে পুলিশের সাঁজোয়া যান থেকে ফেলে আসহাবুল ইয়ামিনকে হত্যার মামলায় ১৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
রোববার প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। পরে আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আমির হোসেন। আসামিপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত শুনানি মুলতবি করেন।
মামলার ১৯ আসামির মধ্যে ১৩ জন পলাতক। তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান রিপন এবং সাভার ও আশুলিয়া থানার সাবেক দুই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
অন্যদিকে ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফী ও মো. শাহিদুল ইসলাম, এএসআই মোহাম্মদ আলী, নায়েক সুহেল মিয়া, কনস্টেবল মাহফুজ মিয়া এবং ঢাকা জেলা যুবলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান ওরফে জিএস মিজান কারাগারে রয়েছেন।
গত ২৬ জুলাই ট্রাইব্যুনাল সাইফুল ইসলামসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে সেদিন গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচি চলাকালে ইয়ামিনকে ধরে পুলিশের সাঁজোয়া যানের কাছে নেওয়া হয়। সেখানে তার বুকে গুলি করা হয়। পরে তাকে সাঁজোয়া যানের ওপর ফেলে ঘোরানো হয় এবং একপর্যায়ে সড়কে ফেলে দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গুলিবিদ্ধ ইয়ামিনকে সড়কের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে টেনে সড়ক বিভাজকের পাশে ফেলে রাখা হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ইয়ামিন মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। প্রসিকিউশন এ ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছে।


