নেত্রকোণায় সাংবাদিক আলিফ হত্যা: অস্ত্ররক্ষক অপূর্ব গ্রেপ্তার

নেত্রকোণায় সাংবাদিক আলিফ হত্যা: অস্ত্ররক্ষক অপূর্ব গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার অপূর্ব। ছবি: সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির (৪০) হত্যার অন্যতম সন্দেহভাজন অপূর্বকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার রাতে দুর্গাপুর পৌরশহরের পুরাতন সিনেমা হল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, অপূর্বকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের মূল রূপকারদের বিষয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তার অপূর্ব মূল শ্যুটার তাজুল এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখন তাকে আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায়ের চেষ্টা করবে। তিনি রাজি না হলে রিমান্ডের আবেদন করা হবে, যাতে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা যায়।’

পুলিশের তথ্যানুযায়ী, অপূর্বর জীবনযাপন ছিল বেশ সন্দেহজনক। সারাদিন তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে আত্মগোপনে থাকতেন। আর রাত ১২টা বাজলেই নিজের কাজ সারতে বের হতেন। শনিবার রাতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকায় পুলিশ সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।

আরও পড়ুন

ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, অপূর্ব এই চক্রের অন্যতম সদস্য। হত্যাকাণ্ডের মূল সন্দেহভাজন ‘শ্যুটার তাজুলের’ সব অস্ত্রের ভাণ্ডার থাকতো অপূর্বর কাছেই। শুধু তাই নয়, এর আগে সাংবাদিক আলিফকে হত্যার প্রথম চেষ্টার ঘটনায়ও অন্যতম আসামি গ্রেপ্তার অপূর্ব। ওই ঘটনায় আলিফের চেহারার মিল থাকায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন।

গত ১৫ অক্টোবর রাত সোয়া ৮টার দিকে দুর্গাপুর পৌরসভার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উতরাইল বাজারে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী এক দোকানদার জানান, ‘ওই সাংবাদিক চা খেয়ে চলে যাওয়ার সময় মোবাইল ফেলে যান। সেটি নিতে আবার ফিরে আসেন। তিনি ফোন নিয়ে বের হওয়ার সময় দুই যুবক এসে আমার কাছে সিগারেট চায়। এরপর তাকে গুলি করে। আমি পরপর চারটি গুলির শব্দ শুনেছি। ভয়ে বাসায় চলে যাই। দুই যুবকের বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হবে। তাদের একজনের পরনে লুঙ্গি, অন্যজনের পরনে প্যান্ট ছিল। গুলি করার পর স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়। কাছ থেকেই গুলি করা হয়েছে।’

লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির বেসরকারি আইপি টিভি ‘রূপসী বাংলার’ নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। এই পেজটির মাধ্যমেই তিনি এলাকার মাদককারবার,চোরাচালান এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিয়মিত লেখালেখি ও ভিডিও প্রকাশ করতেন।

পারিবারিক জীবনে আলিফের পৈতৃক নিবাস কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের শুনুই গ্রামে। তবে তিনি দুর্গাপুরের বিরিশিরি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন।

এদিকে স্বামীর এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে শোকস্তব্ধ আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা। ঘটনার পরদিন ১৬ অক্টোবর রাতে তিনি বাদী হয়ে অজ্ঞাত আটজনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad