ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিজ্ঞান ইউনিটের অবকাঠামোগত সংকট নিরসন, আধুনিক গবেষণা সুবিধা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক অধিকার নিশ্চিতে ৪৪ দফা সম্বলিত ‘বিজ্ঞান ইউনিট সংস্কারের রূপরেখা’ পেশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বিজ্ঞান শাখা (ঢাবি সংসদ)।
আট পর্বে বিন্যস্ত এই প্রস্তাবসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নে প্রশাসনকে আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ। অন্যথায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ‘বৃহত্তর আন্দোলনে’ নামারও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
রোববার ঢাবি বিজ্ঞান শাখা ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞান ইউনিটের সংস্কারের রূপরেখা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তাবসমূহ তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সত্যেন্দ্রনাথ বসুর স্মৃতিবিজড়িত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ইউনিট দেশের বিজ্ঞানশিক্ষা ও গবেষণার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও এর শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য, নিরাপত্তা, গবেষণাগার ও গ্রন্থাগার সুবিধা, সেশনজট এবং গবেষণার মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ হিসেবে ৪৪ প্রস্তাবকে আটটি পর্বে বিন্যস্ত করে উপস্থাপন করা হয়েছে।
কার্জন হলে খাবার ঘর (ক্যাফেটেরিয়া) এবং মোকাররম ও মোতাহের হোসেন ভবনে নতুন ক্যানটিন স্থাপন; সিএআরএস খাবার ঘরের খাবারের মান বাড়িয়ে দাম কমানো; সঙ্গণক গবেষণাগার (কম্পিউটার ল্যাব) সম্প্রসারণ; মোকাররম ও অ্যানেক্স এলাকায় বিনামূল্যে তারহীন ইন্টারনেট (ওয়াই-ফাই) ও শক্তিশালী মুঠোফোন নেটওয়ার্ক নিশ্চিতকরণ; এবং অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া কক্ষ স্থাপনের দাবি জানানো হয়।
প্রতিটি বিভাগে পৃথক বিশ্রামাগার (কমনরুম) স্থাপন এবং ‘গোলাপি কর’ বা অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা অপসারণ করে স্কটল্যান্ডের মতো রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে খাবার ঘর ও শৌচাগারে বিনামূল্যে স্যানিটারি প্যাড সরবরাহের জন্য স্বয়ংক্রিয় ভেন্ডিং মেশিন স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়।
সনাতন ইয়ার সিস্টেম পর্যালোচনার জন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন; পাঠ্যক্রম যুগোপযোগী করা; তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান এবং বায়োমেডিক্যাল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগে স্নাতক (সম্মান) কোর্স চালু করা; এবং বিভাগের অতিরিক্ত ‘উন্নয়ন ফি’ কমানোর জোর দাবি তোলা হয়।
গবেষণানিবন্ধ (থিসিস) প্রস্তুতকারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ গবেষণা ভাতা ও সম্মানী; সিজিপিএ-র বদলে মেধা ও পছন্দের ভিত্তিতে গবেষণা তত্ত্বাবধানকারী (থিসিস সুপারভাইজার) নির্বাচন; গবেষণা সহকারী ও শিক্ষাদান সহকারী পদে স্বচ্ছ নিয়োগ; সাময়িকী প্রকাশনা সহায়তা তহবিল গঠন; প্রাতিষ্ঠানিক ই-মেইলের মাধ্যমে বিশ্বমানের গবেষণা সাময়িকী ও সফটওয়্যারে বিনামূল্যে প্রবেশাধিকার; আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য ‘প্রযুক্তি অনুদান’ এবং একটি কেন্দ্রীয় সফটওয়্যার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালুর দাবি জানানো হয়।
বিজ্ঞান গ্রন্থাগার এবং গবেষণাগারসমূহ দিনরাত ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা; শ্রেণিকক্ষ শব্দনিরোধক করা এবং সেশনজট কমাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
সত্যেন বসু জাদুঘর এবং কাজী জাকের হোসেন প্রাণিবিজ্ঞান জাদুঘরের আধুনিকায়ন; উদ্ভিদ উদ্যানের কাচঘরে বরাদ্দ বৃদ্ধি; এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টেলিমেডিসিন কার্যক্রমকে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস স্বাস্থ্যসেবায় রূপান্তরের দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।
আন্তবিভাগীয় গবেষণা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে কেন্দ্রীয়ভাবে সায়েন্স ফেস্ট আয়োজন; কার্জন হলের বাস্তুতন্ত্র রক্ষা ও বিরল বৃক্ষ সংরক্ষণ; এবং ক্যাম্পাসের কুকুর-বিড়ালের জন্য টিকাদান কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান অক্ষুণ্ন রাখতে প্রশাসনকে অবিলম্বে এসব যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানায় ছাত্র ইউনিয়ন।


