সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় এক সাংবাদিককে হেনস্তা, হুমকি ও ভিডিও মুছে ফেলতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (সিকৃবিসাস)।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে নবনিযুক্ত উপাচার্যকে অভ্যর্থনা জানানোর পর ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে একটি বিষয় নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। এ সময় ওই ঘটনার ছবি তুলতে ও তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে ছাত্রদলের আহ্বায়ক সানাউল হোসেন সনি, যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদ হাসান ফাহাদ ও আনাম সরকার মুন এবং সদস্য রাজেশ বাছাড়সহ কয়েকজন নেতা সাংবাদিক সমিতির অর্থ সম্পাদক আইনুল হকের দিকে আক্রমণাত্মকভাবে এগিয়ে আসেন।
আইনুল হক বলেন, ‘সংঘর্ষের আশঙ্কার খবর পেয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে যান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে আমি ছবি, ভিডিও ও তথ্য সংগ্রহ করছিলাম।’
তার অভিযোগ, এ সময় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদ হাসান ফাহাদ, আনাম সরকার মুন, সদস্য রাজেশ বাছাড়সহ কয়েকজন তার দিকে আক্রমণাত্মকভাবে তেড়ে আসেন। একপর্যায়ে জোর করে মোবাইল ফোন থেকে ভিডিও মুছে বাধ্য করেন তারা। এ সময় ছাত্রদলের নেতারা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলেও অভিযোগ করেন আইনুল।
তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে এ ধরনের হস্তক্ষেপ শুধু গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত নয়, বরং জনগণের তথ্য জানার অধিকারও ক্ষুণ্ন করে।’ এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তবে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সানাউল হোসেন সনি। তিনি বলেন, ‘আমি এই ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলাম না। শুনেছি পঞ্চম তলায় ছেলেদের সঙ্গে একটু কথা কাটাকাটি হয়েছিল। সে (আইনুল হক) চলে যাওয়া ভিসির পালকপুত্র হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত এবং গুপ্ত সংগঠনের কর্মী। তবে সে যে বলছে আমি এসব করেছি, এটা সত্য না।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক জসিম উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, ‘এ বিষয়ে বিচার চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর একটি অভিযোগ দিতে হবে। তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’
আরও পড়ুন: ঢাকা-৮: ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগ


