দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪৩২ জন রোগী।
শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দেওয়া হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে একই সময়ের কেন্দ্রীয় প্রতিবেদনে মৃত্যুর সংখ্যা কম দেখানো হয়েছিল। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্যের সঙ্গে কেন্দ্রীয় তথ্যের গরমিলের পর তা সংশোধন করা হয়।
হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া আটজনের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় একজন, ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় দুজন এবং খুলনা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় পাঁচজন রয়েছেন।
এর আগে শনিবারের কেন্দ্রীয় প্রতিবেদনে গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে তিনজনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছিল। সেখানে খুলনা বিভাগে কোনো মৃত্যুর তথ্য ছিল না। তবে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের প্রতিবেদনে ওই সময়ে বিভাগটিতে পাঁচজনের মৃত্যুর তথ্য দেওয়া হয়।
খুলনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ডেপুটি সিভিল সার্জন মো. শওকত আলী জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনায় ডেঙ্গুতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ে থাকা তথ্যের ভিত্তিতেই মৃত্যুর তালিকা তৈরি করে তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন, খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালে একজন, খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুজন এবং খুলনা আদ-দ্বীন হাসপাতালে একজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) এস এম শাহরিয়ারও জানান, সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাইয়ের পর ঢাকায় পাঠানো হয়। তথ্য এন্ট্রির দায়িত্বে থাকা কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেও গত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে, হালনাগাদ কেন্দ্রীয় প্রতিবেদনে গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে ২৪১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রতিবেদনে নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২৭৬ জন।
কেন্দ্রীয় ও খুলনা বিভাগের প্রতিবেদনে রোগী ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্যের এই পার্থক্যের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (এমআইএস) আবু আহম্মাদ আল মামুন জানিয়েছিলেন, তথ্যের ভুল থাকার বিষয়টি তিনি অবগত নন এবং তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে তথ্য সংশোধন করে পুনরায় সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৪৩২ রোগীর মধ্যে পুরুষ ৮৯৪ জন, যা মোট রোগীর ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ। নারী রোগী ৫৩৮ জন, যা ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ।
আঞ্চলিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায়, ২৮০ জন। এরপর খুলনা বিভাগে ২৪১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২০৯ জন এবং বরিশাল বিভাগে ২০৪ জন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১০৬ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭০ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৭১ হাজার ৫৩৬ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৪৪ হাজার ৫১৬ জন এবং নারী ২৬ হাজার ৭৭৯ জন।
এ সময়ে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন মোট ২১৯ জন। মৃতদের মধ্যে নারী ১১৬ জন এবং পুরুষ ১০২ জন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় সর্বোচ্চ ৬৬ জন এবং খুলনা বিভাগে ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মাসভিত্তিক হিসাবে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরেই ডেঙ্গুতে সংক্রমণ ও মৃত্যু সবচেয়ে বেশি হয়েছে। এ মাসে এখন পর্যন্ত ৩৫ হাজার ৬৯০ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ১২২ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে আক্রান্ত ৭১ হাজার ৫৩৬ জনের মধ্যে ৬৬ হাজার ২৫১ জন ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৪২৪ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫ হাজার ৬৬ জন ডেঙ্গু রোগী।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু নিয়ে খুলনা ও কেন্দ্রের তথ্যে গরমিল


