ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাঠদানের মান, পেশাদারিত্ব ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাডেমিক আচরণ মূল্যায়নে ‘ডিইউ ইভ্যালুয়েশন’ ওয়েবসাইট চালু করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের বিভাগের শিক্ষকদের নির্দিষ্ট মানদণ্ডে মূল্যায়ন করতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় ডাকসু ভবনে সংবাদ সম্মেলনে ওয়েবসাইটটির উদ্বোধন করা হয়।
ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়া বলেন, ডাকসু নির্বাচনের ইশতেহারে শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে দীর্ঘদিন যোগাযোগ করেও অগ্রগতি না হওয়ায় ডাকসুর উদ্যোগে ওয়েবসাইটটি চালু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সময় থেকেই কাজ করেছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি দপ্তর, উপাচার্য, উপ-উপাচার্যসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করেও বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়।’
ওয়েবসাইটে একাডেমিক ই-মেইল দিয়ে প্রবেশের পর শিক্ষার্থীর ই-মেইলে একটি কোড পাঠানো হবে। কোড ব্যবহার করে শুধু নিজের বিভাগের শিক্ষকদের মূল্যায়ন করা যাবে।
ডাকসু নেতারা জানান, উদ্বোধনের আগে দুই দিন ওয়েবসাইটটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু ছিল। এ সময়ে প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থী মূল্যায়ন করেছেন। আগামী সাত দিন পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলবে। শিক্ষার্থীদের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।
পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষে তিন মাসের মূল্যায়ন ও মতামত বিশ্লেষণ করে সব বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। পরে তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দেওয়া হবে।
ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, ‘শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধ তৈরি করা নয়। এর মাধ্যমে পাঠদানের মান উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের মতামত জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় ডাকসু।’
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত মূল্যায়ন করা হলেও শিক্ষকদের পাঠদানের মান বা উন্নতির জায়গা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মতামত দেওয়ার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা ছিল না।
সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষক মূল্যায়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এক বছরেও ব্যবস্থা চালু না হওয়ায় ডাকসুর উদ্যোগে ওয়েবসাইটটি চালু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যর্থ হওয়ায় আমরা ডাকসুর উদ্যোগে শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি শুরু করেছি।’


