জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর কাফরুল থানায় করা তরিকুল ইসলাম রুবেল হত্যা মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম শুনানি শেষে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
শুনানির সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে কলিমউল্লাহ বলেন, ‘আমি ভিসি থাকাকালে জুলাই আন্দোলনে শহীদ হওয়া শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে হত্যা নিয়ে প্রতিবাদ করেছি এবং কথা বলেছি। আমি একজন শিক্ষক, এর বাইরে আর কিছু না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্রজীবন থেকে শিক্ষকতা জীবনে কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। এখনো নেই। ভিসি থাকাকালে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছি। এতে আমাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
গত ৭ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জহুরুল ইসলাম কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। ওইদিন আদালত তার উপস্থিতিতে শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন।
আবেদনে বলা হয়, কারাগারে থাকা কলিমউল্লাহ এই মামলার ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তার নাম-ঠিকানা যাচাই-বাছাই চলছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।
গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের বিরোধিতা করে কলিমউল্লাহর আইনজীবী মহসিন রেজা বলেন, ‘আসামির কোনো রাজনৈতিক পদ-পদবি নেই। তিনি একজন প্রফেসর। আওয়ামী লীগের আমলেও তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তিনি শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির দায়িত্ব পালন করেছেন। এর ভিত্তিতেই তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আবেদনের পক্ষে বলেন, ‘আসামি আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এই হত্যার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করছি।’
দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত কলিমউল্লাহকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় কোটা সংস্কার ও তৎকালীন সরকারের পতনের দাবিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন চলছিল। আন্দোলন দমনে বিভিন্ন পর্যায়ের আসামিরা পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দেন।
ওই বছরের ১৯ জুলাই রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কাফরুল থানাধীন এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি ও হামলা চালানো হয়। এতে মো. তরিকুল ইসলাম রুবেলসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ ও আহত হন। রুবেল মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের নিকটতম আত্মীয় আতিউর রহমান কাফরুল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৫৭ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে।
২০২৫ সালের ৭ আগস্ট মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ওইদিন তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।
কলিমউল্লাহর আইনজীবী মহসিন রেজা তার গ্রেপ্তার দেখানোর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


