ফ্ল্যাট বিক্রির কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে ৭৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এদিন হরিদাস চন্দ্র তরণীকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই মাসুদ রানা।
রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে বাসুদেব গুহ রিমান্ড বাতিলের পাশাপাশি জামিনের আবেদন করেন।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে, উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা অর্থপাচার মামলায় গত ১২ জুলাই রাতে গাইবান্ধা থেকে হরিদাস চন্দ্র তরণীকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে ওই মামলায় চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে ১৬ জুলাই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
কারাগারে থাকা অবস্থায় ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগে গত ২৪ আগস্ট উত্তরা পশ্চিম থানায় হরিদাস চন্দ্র তরণী ও ওবাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেন একটি বেসরকারি কোম্পানির কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাসুদ রানা পরদিন হরিদাসকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। গত ১ সেপ্টেম্বর আদালত তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখান। এরপর গত ৩ সেপ্টেম্বর তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করে আদালত।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বাদী মাহবুবুর রহমান ও আসামি ওবাইদুল ইসলাম কলেজজীবনের বন্ধু। তারা উত্তরা ১২ নম্বর এলাকায় থাকেন। ওবাইদুল নিজেকে অনয় ডেভেলপার কোম্পানির মালিক পরিচয় দিয়ে জানান, খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকায় তাদের অফিস রয়েছে।
একপর্যায়ে মাহবুবুর রহমান নিকুঞ্জ এলাকায় একটি ফ্ল্যাট কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় ফ্ল্যাটের জন্য ওবাইদুলকে প্রথমে ১০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা দেন তিনি। পরে বাসার নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে আরও ১৫ লাখ টাকা দাবি করলে সেই টাকাও দেন মাহবুব।
অভিযোগে বলা হয়, টাকা নেওয়ার পরও ওবাইদুল ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দিয়ে বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। পরে টাকা ফেরত চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকার করেন। একপর্যায়ে মাহবুব নিকুঞ্জে ওবাইদুলের অফিসে গেলে সেখানে তাকে জানানো হয়, তার ব্যবসায়িক অংশীদার হরিদাস চন্দ্র তরণী আসছেন।
পরে হরিদাস ওই অফিসে এসে মাহবুবকে জানান, তার কাছে টাকা নেই, তবে ফ্ল্যাট রয়েছে এবং তিনি ফ্ল্যাট দিতে পারবেন। তার কথায় বিশ্বাস করে মাহবুব আরও ৪৫ লাখ টাকা দেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এভাবে দুই আসামি মিলে তার কাছ থেকে মোট ৭৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকা নেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পরও তাকে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি এবং টাকা ফেরতও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন মাহবুবুর রহমান।


