অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ কল্যাণের কাছে আয়কর বাবদ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছে হাইকোর্ট।
এ বিষয়ে জারি করা রুল খারিজ করে বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া এবং বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করে। রায়ে আয়কর বাবদ ৬৬৬ কোটি টাকা পুনর্নির্ধারণ করে এনবিআরের আদেশের বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণের দুটি রিট খারিজ করা হয়েছে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আবদুস সামাদ আজাদ। গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফিদা এম কামাল, আবদুল্লাহ আল মামুন ও খাজা তানভীর আহমেদ।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আবদুস সামাদ আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্টের রায় ট্যাক্সেস ডিপার্টমেন্টের পক্ষে, তথা সরকারের পক্ষে এসেছে। রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার পর এনবিআর গ্রামীণ কল্যাণকে একটি ডিমান্ড নোটিশ পাঠাবে। নোটিশে ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ কর বছরের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রাপ্য ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি আয়কর পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হবে।
গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, হাইকোর্টের রায় চ্যালেঞ্জ করে তারা আপিল আবেদন করবেন। আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় স্থগিত করলে এনবিআরের দাবি করা অর্থ গ্রামীণ কল্যাণকে পরিশোধ করতে হবে না। ২০২৪ সাল থেকে মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ কল্যাণের সঙ্গে যুক্ত নন বলেও দাবি করেন তিনি।
এর আগে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চ এ বিষয়ে দায়ের করা রিট খারিজ করে। পরে ওই রায় প্রত্যাহার করে হাইকোর্টের একই বেঞ্চ। কারণ হিসেবে বলা হয়, বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারক একসময় এসব মামলায় সরকারের পক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ কারণে রায় প্রত্যাহার করে মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। এরপর মামলাগুলো শুনানির জন্য নতুন বেঞ্চে পাঠানো হয়।
গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান ছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস। পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে কর বাবদ প্রদেয় অর্থের দাবি জানানো হয়। এ দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে পৃথক দুটি রিট করে গ্রামীণ কল্যাণ। ২০২৪ সালে রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছিল, পাঁচটি করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে কর বাবদ ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি দাবি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রায় জারি করে। সেই রুল খারিজ (ডিসচার্জ) করা হলো। এ অবস্থায় আয়কর বাবদ গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে ওই অর্থ আদায় করতে পারবে এনবিআর।


